সমালোচনার মুখে ‘অদ্ভুত’ নিয়ম বাতিল করল শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে ‘আইকন’ খেলোয়াড়দের জন্য অন্যরকম এক শর্ত চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী টপ টায়ার আইকন ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে খেলোয়াড়দের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে হবে ১০০টির বেশি। শেষ ১৮ মাসে ন্যূনতম ৩০ ম্যাচ খেলতে হবে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে থাকতে হবে আড়াই লাখের বেশি ফলোয়ার। শেষের এই নিয়ম নিয়েই যত আলোচনা।

তুমুল বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ‘অদ্ভুত’ এই নিয়ম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। নিউজওয়্যার-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মে প্রকাশিত এলপিএলের ষষ্ঠ আসরের খেলোয়াড় নিবন্ধন ও ড্রাফট গাইডের সংশোধিত সংস্করণে এই শর্তটি আর রাখা হয়নি। এর আগে নিয়ম করা হয়েছিল যে, আইকন ও স্টার ক্যাটাগরিতে নাম লেখাতে হলে খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্যই আড়াই লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকতে হবে।

আগামী ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শীর্ষস্তরের ‘আইকন’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেতে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট ছিল না। আগের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বা ১০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকার পাশাপাশি গত ১৮ মাসে অন্তত ৩০টি ম্যাচে মাঠে নামার বাধ্যবাধকতা ছিল। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হয়েছিল আড়াই লক্ষ ফলোয়ার থাকার সেই বিতর্কিত শর্তটি।

সংশোধিত নীতিমালায় সামাজিক মাধ্যমে ফলোয়ারের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে; যদিও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ম্যাচ খেলার মতো ক্রিকেটীয় যোগ্যতার শর্তগুলো আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার কমিয়ে খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়, অন্যদিকে এলপিএল-এর নিয়মাবলীতে অনলাইন জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—যা চরম দ্বিচারিতা।

সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল, শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা উচিত তাদের ক্রিকেটীয় মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, ডিজিটাল জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়।

ফলোয়ারের সংখ্যার শর্তটি শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হলেও, সংশোধিত নীতিমালায় প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা, ফ্যান এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights