সরকারি ব্যবস্থাপনায় লোকসান, বেসরকারি খাতে পূর্বাঞ্চলের ৬ ট্রেন
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
লোকসানের গ্লানি থেকে বের হতে আরও ৬টি ট্রেন যাচ্ছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। সরকারি সিদ্ধান্তের পর ইতোমধ্যে তিনটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। বাকি তিনটি ট্রেন পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহবান করা হবে। তবে এই ৬টি ট্রেনের মধ্যে বর্তমানে দুটি ট্রেন বন্ধ রয়েছে। নতুন করে এই ৬ ট্রেন গেলে পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ট্রেনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে লোকসান ও সংকটের অজুহাতে। অথচ রেলওয়ের দায়িত্বশীলরা যদি আন্তরিক ও দেশপ্রেমিক হোন তাহলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা করবে তারাও তো লাভ করবে, তাহলে সরকারি ব্যবস্থাপনা কেন পারবে না। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা করা হলে রাজস্ব আয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে টিকিট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। টিকিট নিয়ে কমবে কালোবাজারি। রেল ভবন থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর নতুন ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভিন্ন রুটে ৬টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এরমধ্যে ঝারিয়া, নরসিংদী এবং নারায়নগঞ্জ এই তিনটি ট্রেনের গত ৬ সেপ্টেম্বর টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারসহ আনুসাঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই মাস সময় লাগতে পারে। অপর ৩টি ট্রেন পর্যায়ক্রমে টেন্ডার আহবান করা হবে। এরমধ্যে দুটি ট্রেন বন্ধ রয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার প্রধান উদ্দেশ্যে হলো অলাভজনক ট্রেনগুলোকে লাভজনক করা। যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন করা। সরকার নির্ধারিত ভাড়া থাকবে। এর বাহিরে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, জনবল সংকট, অলাভজনক হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ৬টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যে ৬টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রেনগুলো হলো ঝারিয়া লোকাল, নাজিরহাট লোকাল, জয়দেবপুর কমিউটার, নরসিংদী কমিউটার; সমতট মেইল; নারায়নগঞ্জ মেইল। এসব ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লাকসাম, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। এরমধ্যে নোয়াখালী এবং সমতট ট্রেন দুটি বর্তমানে চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা ট্রেন দুটি আবার চালুর পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নাজিরহাট লোকাল ট্রেনটি কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার জন্য নরসিংদী কমিউটার, নারায়নগঞ্জ কমিউটার ও ঝালিয়া লোকাল ট্রেনের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের মধ্যে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে ট্রেন এক সময় লাভজনক ছিল। দিনে ৫/৬টি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করতো। যাত্রীদের চাহিদা ছিল ট্রেন। গ্রাম থেকে মানুষ ট্রেনে করে শহরে এসে আবার নাজিরহাটসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতো। কিন্তু লাভজনক ওই রুটে ট্রেনের রেকের সংখ্যা কমতে কমতে এখন একটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে এই রুটে ট্রেন চলাচল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে গেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন রুটে ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমান কার্যক্রম স্থগিত) সরকারের আমলে এসব ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা শুরু হয়। ওই ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার; জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জবাজার; ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে মহুয়া কমিউটার; ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কর্ণফুলী কমিউটার; চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে সাগরিকা কমিউটার; তিতাস কমিউটার ঢাকা-ব্রাক্ষনবাড়িয়া রুটে এবং ঢাকা-ঝারিয়া রুটে বলাকা কমিউটার ট্রেন।
