সরকার পতনের দিনগণনা শুরুর ‘যে প্রমাণ’ দিলেন রিজভী

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে থাকা নিশিরাতের সরকারের এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থা। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের নিশিরাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখতে পারলেও এবার আর সম্ভব হচ্ছে না, এটা আওয়ামী লীগ প্রধান ও দলের সাধারণ সম্পাদক নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছেন।’

আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এসব মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি বলে দিয়েছি, যে দেশ স্যাংশন দেবে তাদের কাছ থেকে আমি কিছু কিনব না। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশে রপ্তানি খাতের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি সবকিছু ধ্বংস করে ক্ষমতায় থাকতে চান। তার এই সমস্ত বক্তব্য পতনের সাইরেন।’

‘তবে এখন সরকারের দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ হবে না। তাদের সামনে পরিত্রাণের সোজাসাপ্টা একটাই পথ এবং তা হলো পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর’, যোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেবল দেশের জনগণ নয়, বিদেশিরাও জেনে গেছে যে, এই মাফিয়া সরকার মিথ্যা, প্রতারণা আর ভেল্কিবাজির মাধ্যমে ভোটারবিহীন নির্বাচনের দিকে পা বাড়াচ্ছে।’
রিজভী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতিতে আর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের অনেক মানুষ বর্তমানে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। ডলারের অভাবে অনেক ব্যবসায়ী এলসি খুলতে পারছেন না। ডলারের অভাবে আমদানি-রপ্তানিতে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশাল লাটবহর নিয়ে অকারণে কয়েকটি দেশ সফর ও এর ফলাফল নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের পতনের দিনগণনা যে শুরু হয়েছে তার প্রমাণ হলো এই সরকারের মন্ত্রী এমপিরাও এখন সত্য কথা ফাঁস করতে শুরু করেছে। সরকারের লুটপাট সিন্ডিকেট, গুম, খুন, দুর্নীতি দুঃশাসনের কথা জনসম্মুখে ফাঁস করে মাফ চাচ্ছেন কোনো কোনো মন্ত্রী। শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেছেন, নিত্যপণ্যের দামের কারণে বাজারে গিয়ে অনেককে কাঁদতে দেখেছেন তিনি। কারণ, মানুষের পকেটে টাকা নেই। সিন্ডিকেটের কারণে সবকিছুরই দাম বেড়েছে। এই মন্ত্রী মাফিয়া সরকারের সিন্ডিকেটের নাম বলতেও ভয় পান। তিনি বলেছেন, মন্ত্রীদের ভেতর একটা সিন্ডিকেট আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights