সরাইলে ফসলি জমির মাটি কাটার ধুম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ধরন্তির আকাশী বিলের পূর্ব উত্তর পাশে অবৈধভাবে ৭টি এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটা ধুম। প্রকাশ্যে এ মাটি কাটা চললেও প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় বুক ফুলিয়ে চলছেন অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধরন্তি আকাশি বিলের পূর্ব উত্তর পাশে ৭টি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে সেই মাটি ১০/১২ ট্রাক্টর করে পাঠানো হচ্ছে ইটভাটায়। এছাড়াও এই মাটি নৌকা দিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে।

জানা যায়, মাটি ব্যবসায়ীরা ধরন্তি আকাশি বিলে ৭টি ভেকু নামিয়েছে মাটি কাটার জন্য। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একদল মাটি কাটে, আরেকদল বন্ধ রাখে। এইভাবে চলতে থাকে মাটি কাটা।

কৃষিবিদদের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি (টপ সয়েল) গভীরের মাটিতেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। মূলত মাটির এই স্তরে ফসল উৎপাদিত হয়। মাটির এই স্তর কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়। এজন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় না। তা ছাড়া কৃষিজমি ওপরের এ টপ সয়েল হারিয়ে ফেললে তা স্বাভাবিক হতে প্রায় ১০-১২ বছর লাগে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, যেসব জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে তার পাশের জমিগুলোতেও কয়েক বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। আমরা এই দুই ইটভাঁটা মালিকগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত মাটি ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

মাটি ব্যবসায়ী রমজান এবং মুক্তার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। ইটভাটার মালিক রাসেল ট্রাক্টর করে জমির মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করেন।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। আমি সবেমাত্র এই উপজেলায় যোগদান করেছি। খবর নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights