সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান রপ্তানিতে তুরস্কের রেকর্ড
উচ্চমান ও কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানির মাধ্যমে ২০২৫ সালে রেকর্ড গড়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও বিমান খাত। দেশটির এ খাতের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১০.০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুন বলেন, ‘২০২৫ সালে প্রতি মাসেই রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি ২.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এই খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড।’
সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে ইউরোপের চারটি দেশ এবং আরেকটি যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৫৬ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো সদস্য দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি অংশ রপ্তানি হয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায়।
২০২৫ সালে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে এই খাতের রপ্তানি দেশের মোট রপ্তানির মাত্র ১.৭ শতাংশ ছিল। ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে।
হালুক গোরগুন বলেন, উচ্চমানের ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে পণ্য উৎপাদন, বিক্রয়োত্তর সেবা ও নিশ্চয়তা দেওয়ার কারণেই এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
গত বছর তুরস্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও করেছে তুরস্ক। এর মধ্যে রয়েছে পর্তুগালের সঙ্গে সামরিক জাহাজ রপ্তানি, স্পেনের সঙ্গে হুরজেট প্রশিক্ষণ বিমান রপ্তানির চুক্তি।
এছাড়া, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কান (কেএএএন) যুদ্ধবিমান ও রোমানিয়ার সঙ্গে অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল সরবরাহের চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গেও একাধিক ড্রোন ও গোলাবারুদ রপ্তানি চুক্তি হয়েছে।
হালুক গোরগুন আশা করছেন, ২০২৬ সালে এই খাতে সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে ও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
