সামরিক সহায়তা চেয়ে কানাডায় জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কানাডায় পৌঁছেছেন। কিয়েভ বর্তমানে রুশ বিমান হামলার চাপের মুখে রয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেট চালিত ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে বেসামরিক জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কানাডা সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষায় সহায়তা এবং শীতকালের প্রস্তুতির ওপর। আমরা আলোচনা করব কীভাবে আমাদের সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা যায়, জনগণকে সহায়তা করা যায় এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ইউক্রেনের হাতে নিশ্চিত করা যায়।

কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল’-এর আওতায় কিয়েভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রও কিনছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে বিনামূল্যে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ রেখেছে।

সফরসঙ্গী ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, কানাডা ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনকে সুনির্দিষ্ট সহায়তা দিয়ে আসছে এবং এই সফরের উদ্দেশ্য হলো সেই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বয়ে আনতে পারেনি। তবে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার দিন মলদোভা থেকে নরওয়েগামী ভলোদিমির জেলেনস্কির বহনকারী ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছিল, কারণ ড্রোন অনুপ্রবেশের কারণে কর্তৃপক্ষ মলদোভার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ড্রোন যুদ্ধের ব্যাপকতা বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়া ও মলদোভা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও বারবার ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন এখন সাইবেরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সোচি শহরের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ইউক্রেনের একটি সামুদ্রিক ড্রোন (সি-ড্রোন)-এর আঘাতে দুই শিশুসহ ২৮ জন আহত হয়েছেন। তারা জানান, সমুদ্রসৈকতের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

বৃহস্পতিবার (১গ সেপ্টেম্বর) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী গত রাতে ৪৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির ১৩টি অঞ্চল এবং ইউক্রেনের অধিকৃত উপদ্বীপ ক্রিমিয়া পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে উড়ে আসা এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

স্থানীয় গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোরোনেজ অঞ্চলের একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে এক নারী নিহত এবং আরও দুজন আহত হন। অন্যদিকে জেলেনস্কি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার যুদ্ধ-সহায়ক আটটি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে; এর মধ্যে রয়েছে ইয়ামালো-নেনেটস অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার এবং দাগেস্তানের একটি বন্দর। তিনি আরও জানান, মস্কো, ভোরোনেজ, আস্ত্রাখান এবং ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানা হয়েছে।

এই লক্ষ্যবস্তুগুলো একে অপরের থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল, যা ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন সক্ষমতার ব্যাপকতা ও বিস্তৃতিকে তুলে ধরেছে। এর আগের দিন ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ পূর্ববর্তী প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ইউক্রেনীয় বাহিনী সাইবেরিয়ায় অর্থাৎ ইউক্রেন থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে।

এদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত রাতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ওপর ১৪৯টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই ছিল জেট চালিত। আঞ্চলিক প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কিয়েভ অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে আরও অন্তত ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights