সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের গুরুত্ব নিয়ে জাবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সভা
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রবিবার বিকেলে সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে জাবির মুক্তমঞ্চে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে তরুণদের একটি বড় অংশ সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ একটি সুন্দর, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা বলেন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও দলগত কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়, যা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলোচনা সভায় অংশ নেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রানী, সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম, সাংগঠনিক সম্পাদক পরান চন্দ্র রায়, প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নুর, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক প্রতিভা, দপ্তর সম্পাদক কে. এম. জাহিদ বিন খালিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতারা ফেরদৌস এলসা, শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম সম্পাদক সুমাইয়া আক্তারসহ সংগঠনের বৃত্তিপ্রাপ্ত সদস্যরা।
সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রানী বলেন, সামাজিক কাজ শুধু মানুষের উপকারই করে না, এটি আমাদের মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতি আমাদের সবারই দায়িত্ব রয়েছে। তরুণদের শিক্ষা, সচেতনতা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। ছোট ছোট উদ্যোগও সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ মোবাইলনির্ভর জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। অথচ সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের নেতৃত্বগুণ, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ আরও বিকশিত হবে।
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক রিফাত বিন নুর বলেন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এটি শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর, মানবিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, এটি মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
