সার্কাস থেকে চিড়িয়াখানায় ‘বাদশা বাহাদুর’
জয়ীতা রায়
দিনের পর দিন সার্কাসে মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসছিল ‘বাদশা বাহাদুর’। বিভিন্ন সার্কাস পার্টির ভাড়া খাটতে গিয়ে বাঁকা হয়ে গেছে পিঠ। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়েছে একটি দাঁত। অসুস্থ হলে সার্কাসের কাজ বন্ধ হলেও পেটের চাহিদায় রাস্তায় নামিয়ে চলে চাঁদাবাজি। রোদ, বৃষ্টি, গরমে রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। বলছিলাম বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকার হাতি ‘বাদশা বাহাদুর’ এর কথা। বাদশা বাহাদুর এর এ দুঃখ গাথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। হাতিটির সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন তিনি। তাঁর নির্দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাতিটিকে ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বগুড়ার মহাস্থান বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদশা বাহাদুরকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করলে পরে হাতিটিকে ট্রাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় এনে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে বাদশা বাহাদুরের। এ ব্যাপারে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাতিটির চিকিৎসা চলছে। ওর ইনফেকশন অনেকটা কমে এসেছে। হাতিটি ২০ বছর আগে একবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। সে সময় এক পায়ে আঘাত পেয়েছিল। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় আশা করছি হাতিটি খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে। তার দেখাশোনার ব্যাপারে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সবসময় তৎপর রয়েছে।
