সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রতাহার করা হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনী (সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস বা এসডিএফ) ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সিরীয় সরকার অভিযান শুরু করার পরই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বর্তমানে দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় গঠিত বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনীকে নিরস্ত্র করে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যদি এসডিএফ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে তবে সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির আর কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, সিরিয়ার বর্তমান সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভব নয় কারণ তাদের মধ্যে চরমপন্থী ও জিহাদি ভাবাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ ছাড়া ওই বাহিনীর অনেকের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু কুর্দি ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তুরস্কের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট শারার বাহিনী এবং এসডিএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে মার্কিন সেনারাও বিপদের মুখে পড়ছে। গত ডিসেম্বরে সিরীয় সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই এসডিএফকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি সংগঠন পিকেকে-র একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী মনে করে।

এদিকে এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে সেখানে বন্দি থাকা প্রায় সাত হাজার আইএস সদস্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে যাদের নিজ দেশ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম গত বুধবার থেকে বন্দিদের ইরাকের নিরাপদ কারাগারে স্থানান্তর শুরু করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ইরাক সরকার এই সন্ত্রাসীদের আটকে রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, অ-ইরাকি বন্দিরা সেখানে সাময়িকভাবে থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অতি দ্রুত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ব্রেট ম্যাকগার্ক পেন্টাগনের এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সতর্ক করেছেন যে, আইএসের বন্দিশিবিরগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার আন্তর্জাতিক পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে লক্ষ্য নিয়ে এসডিএফ-এর সাথে জোট গঠন করা হয়েছিল, তার কার্যকারিতা এখন ফুরিয়ে এসেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights