সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন
অনলাইন ডেস্ক
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সিরিয়ার সরকার তার সীমান্তের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে এবং ব্যাপক পরিমাণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট গ্রুপ (আইএস) এর প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকান সেনা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সিরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি শর্তভিত্তিক পরিবর্তনের অংশ এবং আমেরিকা এই অঞ্চলে যে কোনও হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ খবরটি ইরানের কাছে মার্কিন সেনাদের বর্ধিত উপস্থিতির বাড়ানোর সময়ে এসেছে।
বিবিসি ভেরিফাই ইরানের কাছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। যা গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান দিয়ে সজ্জিত। আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে, যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিনিয়র জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প মার্কিন সেনাবাহিনী শনিবারের মধ্যেই ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। যদিও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সিরিয়ায় মার্কিন সেনারা ইতোমধ্যেই এ বছরের শুরুতে দক্ষিণ সিরিয়ার আল-তানফ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্বে আল-শাদ্দাদিতে দুটি ঘাঁটি ছেড়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং সিরিয়ায় নিরাপত্তার উল্লেখযোগ্য উন্নতির মধ্য দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়া ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পদক্ষেপের পর সেখানে মার্কিন সেনো মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কের সঙ্গে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শারা, দেশটির ইতিহাসে কোনও সিরিয়ান নেতার এই প্রথম সফর। তার সরকার মাঝে মাঝে স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যা কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করবে।
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার সিরিয়ান প্রতিপক্ষ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে দেখা করেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই নিয়েও রুবিও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সিরিয়ার পালমিরায় আইএসের একজন বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় একজন অনুবাদক এবং আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হন, পেন্টাগন জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যকার শক্তিশালী হতে থাকা সম্পর্কের এটি একটি বড় নিদর্শন, যা দেশটিতে নিয়োজিত মার্কিন সৈন্য সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করেছে।
