সিলেটে গাছের শত্রু বন বিভাগ

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উভয় পাশে ছিল সারি সারি গাছ। নগরের টিলাগড় হচ্ছে মহাসড়কটির প্রবেশদ্বার। দুই লেনের এ মহাসড়কটি উন্নীত হবে চার লেনে। তবে টিলাগড় নয়, সুরমা গেট থেকে শুরু হবে চার লেনের কাজ। সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়কটি সুরমা গেটে এসে যুক্ত হবে তামাবিল মহাসড়কে। তাই চার লেন প্রকল্পের বাইরে থাকছে মহাসড়কটির টিলাগড়-সুরমা গেট অংশ। কিন্তু সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দোহাই দিয়ে ওই অংশের হাজারের ওপর গাছ কেটে ফেলেছে বন বিভাগ। অথচ সওজ বলছে, ওই অংশটি তাদের প্রকল্পের মধ্যেই নেই। বন বিভাগ কেন এ অংশের গাছ কাটছে তা তাদের বোধগম্য নয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশের উভয় পাশে সারি সারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সড়কের উভয় পাশে ফেলে রাখা হয়েছে কাটা গাছের টুকরো। গাছের বড় অংশ সড়কের পাশে রেখে ছোট অংশ ও ডালপালা ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশজুড়ে চলছে বন বিভাগের গাছ কাটার এ মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, উভয় পাশের এ গাছগুলোই ছিল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সৌন্দর্য। এ ছাড়া ছায়াবৃক্ষ হিসেবেও গাছগুলো অবদান রাখছিল। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে বন বিভাগ গাছগুলো কেটে ফেলায় অবাক স্থানীয় লোকজন। গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আয়নাল হক জানান, সুরমা গেট পর্যন্ত ইতোমধ্যে তিনি সাত শর অধিক গাছ কেটে ফেলেছেন। গাছ কাটার কাজ চলমান রয়েছে। বন বিভাগের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কাটছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কটি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এসে শহরমুখী না হয়ে ডানে মোড় নিয়ে পীর হবিবুর রহমান চত্বর-শাহপরান সেতু হয়ে সুরমা গেট এলাকায় গিয়ে তামাবিল সড়কে যুক্ত হবে। এরপর মহাসড়কটি চার লেন হয়ে তামাবিল স্থলবন্দর যাবে। তাই বর্তমান দুই লেনের তামাবিল মহাসড়কটির চার লেনের কাজ শুরু হবে সুরমা গেট এলাকা থেকে। কিন্তু এ প্রকল্পের অজুহাত দেখিয়ে সিলেট বন বিভাগ টিলাগড়-সুরমা গেট পর্যন্ত অংশের প্রায় ১ হাজার গাছ কেটে ফেলছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এ অংশের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেটের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আবদুল করিম কিম বলেন, ‘উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শুধু বৃক্ষ নিধন করতে দেখা যায়, কখনো সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে দেখি না। বন বিভাগ মূলত উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেই গাছগুলো কাটছে।’ এ প্রসঙ্গে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, সওজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কের উভয় পাশের গাছ কাটা হচ্ছে। তাই প্রকল্পের বাইরের ছোট অংশের গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে বন বিভাগের দাবি অস্বীকার করে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশ চার লেন প্রকল্পের বাইরে। এ অংশের গাছ কাটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। বন বিভাগকে এ অংশের গাছ কাটার কোনো আবেদনও করা হয়নি। তারা কেন কাটছে তা বোধগম্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights