সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বাড়তে থাকায় আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি তিনটি জেলার চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ জেলা) পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট জেলা) পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ জেলা) পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।

এছাড়া নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে এবং সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী দুই দিনে তা আরও বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে গিয়ে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এর ফলে আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বেড়েছে। অন্যদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে।

পূর্বাভাসে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে।

এর ফলে কিছু কিছু জায়গায় পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে বা চলমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের উজানে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল বেড়েছে; অন্যদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

এর ফলে নদীগুলোর নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া এ সময়ে গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী সতর্কসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাগট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীসমূহের পানি সমতল বেড়েছে; অন্যদিকে আপার করতোয়া নদীর পানি সমতল কমেছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।

তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল কমতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমানে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি গেজ স্টেশনের মধ্যে ৮০টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে এবং ৪৪টি পয়েন্টে কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights