সুন্দরবন রক্ষায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন কঠোরভাবে দমন করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী
বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবন সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলার কাইনমারিতে চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক পরিবেশ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান এবং মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একই সময়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় অবৈধ দখলমুক্ত করে খাল সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালে ৪৪১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপ কমাতে বাসাবাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, বিএনপি নেতা আবু হোসেন পনি, মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ।
সমাবেশে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য চারজনকে ‘সবুজসাথী সম্মাননা-২০২৬’ দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণে নিরঞ্জন গুপ্ত ও বিনয় অধিকারী এবং ফলদ বৃক্ষরোপণে তৃষ্ণা সরকার ও জনি হালদার।
