সেই দুঃখ গাঁথা অমরত্বের তুলিতে মুছবার সুযোগ লিও’র সামনে

অনলাইন ডেস্ক

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নামটা শুনলেই লিওনেল মেসির স্মৃতিতে ভেসে ওঠে দুঃসহ দীর্ঘশ্বাস, এক বুক হাহাকার। ঠিক দশ বছর আগে এই মাঠেই আকাশী-নীল জার্সির মায়া কাটিয়ে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফুটবল জাদুকর। সেই কান্নায় ভিজেছিল গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ।

আজও সেই অভিশপ্ত মাঠ! নিয়তির কি এক অদ্ভুত খেলায় ইতিহাসের চাকা ঘুরে এসে ঠেকেছে সেই পুরনো ক্ষতস্থানেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত, আর প্রতিপক্ষ স্পেন। একদিকে ট্রফি জয়ের হাতছানি, অন্যদিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিকে জয়ের রঙে রাঙানোর শেষ সুযোগ।

২০১৬ সালের সেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল ছিল মেসির ক্যারিয়ারের অন্ধকারতম অধ্যায়। টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে মাঠেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। গ্যালারিতে তখন কান্নার রোল, আর ডাগআউটে বসে থাকা মেসি যেন এক নিথর মূর্তি। সেদিন আবেগের আতিশয্যে ঘোষণা করেছিলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ’।

সেই কঠিন সময়ে আর্জেন্টিনার অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; সবখানে ছিল শুধু এক কাতর আর্তনাদ। সেই মিছিলে ছিল পনেরো বছর বয়সী এক কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। রিভার প্লেটের সেই তরুণ ফুটবলার খোলা চিঠিতে মেসিকে লিখেছিলেন, ‘লিও, আমাদের ছেড়ে যেও না, তোমার খেলা দেখার আনন্দ কেড়ে নিও না’।

আজ সময় কত দ্রুত বদলে গেছে! যে কিশোরটি একসময় ইন্টারনেটে আর্তনাদ করে প্রিয় তারকাকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন, তিনিই এখন মেসির প্রধান সারথি, মাঝমাঠের অতন্দ্র প্রহরী। এই ফাইনালে এই দুই খেলোয়াড়ের উপস্থিতি যেন এক কাব্যিক রূপকথার জন্ম দিয়েছে।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের যে গ্যালারিতে মেসি সেদিন একা কেঁদেছিলেন, আজ সেখানেই গর্জন করবে হাজার হাজার ভক্ত। মেসির সামনে এখন নতুন লড়াই; নিজের পুরনো আতঙ্ককে জয় করে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights