সেই পাঁচ ওরাংওটাং শিশুকে ভারত থেকে ফেরত নিতে চায় ইন্দোনেশিয়া
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের মাটিতে হঠাৎ সন্ধান মিলল এমন পাঁচটি প্রাণীর, যাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ভারত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে!
ওড়িশার বালেশ্বরের জালেশ্বর রেঞ্জের একটি জঙ্গলে টহল দেওয়ার সময় বনকর্মীদের চোখে পড়ে পাঁচটি ছোট্ট ওরাংওটাং। বয়স মাত্র এক থেকে দেড় বছর। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, তারা এল কোথা থেকে?
গত ৮ সেপ্টেম্বর জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং-কে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে। বর্তমানে সেখানে কড়া কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাদের।
আর এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাণীগুলোর শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে মনে করা হচ্ছে, এগুলো সম্ভবত সুমাত্রান ওরাংওটাং। তবে নিশ্চিত হতে করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা। জানা যাবে তাদের প্রজাতি এবং জেনেটিক উৎস।
কারণ ওরাংওটাং ভারতের স্বাভাবিক বাসিন্দা নয়। এই প্রাণীগুলো মূলত সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা।
তাহলে এই পাঁচটি শিশু হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ওড়িশার জঙ্গলে পৌঁছাল কীভাবে?সেখানেই উঠছে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্দেহ। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে কি জড়িয়ে রয়েছে এই ঘটনা?
ওড়িশার পরিবেশমন্ত্রী রাম সিং খুন্টিয়াও এর আগে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওরাংওটাং পাচার নিষিদ্ধ।
ইন্দোনেশিয়া ইতিমধ্যেই তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও জাকার্তার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চলছে।
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরার পরও অবশ্য শেষ হবে না তাদের লড়াই। প্রথমে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোয়ারেন্টাইন এবং আচরণগত মূল্যায়ন। সুস্থ ও উপযুক্ত প্রমাণিত হলে তাদের পাঠানো হতে পারে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে। লক্ষ্য একটাই, একদিন যেন তারা আবার ফিরে যেতে পারে নিজেদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে।
আর এই ঘটনা সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক বাস্তবতা।
মানুষের দখল, বন ধ্বংস এবং নানা ধরনের হুমকির কারণে আজ ওরাংওটাংয়ের অস্তিত্বই সংকটের মুখে। বোর্নিও ও সুমাত্রায় তাদের সংখ্যা গত এক শতকে ব্যাপকভাবে কমেছে। আর তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ। পৃথিবীতে বন্য অবস্থায় তাদের সংখ্যা ৮০০-এরও কম বলে ধারণা করা হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
