সেউতা থেকে ফিরছেন অভিবাসীরা

অনলাইন ডেস্ক
মরক্কো থেকে সেউতায় আকস্মিক গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে স্পেন। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মাত্র দুই দিনেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় ঢুকে পড়েন। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের এই স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহলটি আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার ও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত।

স্পেন সরকার জানিয়েছে, স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হওয়া অনেকেই ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তবে এই বিশাল সীমান্তচাপ মানবিক বিপর্যয়েরও জন্ম দিয়েছে—এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মরক্কো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আরও হতাহতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্পেন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী সীমানাপ্রাচীর ও উপকূল রক্ষা বাঁধ টপকানোর চেষ্টাকালে ডুবে এবং পিষ্ট হয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করে। এতে সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং বাস ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের সামরিক যান সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে বাধ্য হয়ে অনেক অভিবাসী নিজ থেকেই মরক্কোয় ফিরছেন।

মরক্কো থেকে স্পেনের ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসীদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অনুপ্রবেশের পেছনে কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব, বিচারিক একটি রায় এবং নিজ দেশে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। মরক্কোয় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য ও ২৫ শতাংশের বেশি তরুণের বেকারত্ব মানুষকে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করছে। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights