সেন্টমার্টিনে চরম খাবার সংকটে ৪ হাজার কুকুর

আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিত করার পর নানামুখী সংকট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে গত তিন মাস ধরে সবচেয়ে অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দ্বীপের সাড়ে ৪ হাজার অবলা কুকুরের জীবনযাপনে। পর্যটকশূন্য দ্বীপে কুকুরের খাবারের উৎস প্রায় বন্ধ। ফলে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে দ্বীপের কুকুরগুলো। মারাও যাচ্ছে কিছু কুকুর। মৃত কুকুরের মাংস খাচ্ছে জীবিতরা। তবে রবিবার থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবী কুকুরের জন্য খাবার নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছেন। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বাংশের ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ হাজারের মতো। এই দ্বীপের কুকুরের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও অন্তত চার থেকে সাড়ে চার হাজার কুকুর আছে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, পর্যটনই দ্বীপের বাসিন্দাদের আয়ের প্রধান উৎস। গত কয়েক মাস ধরে পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিত করার পর চরম আর্থিক সংকট মোকাবিলা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। আর বাসিন্দা ও পর্যটকদের খাবারের উচ্ছিষ্ট খেয়েই জীবন পার করে এখানকার বেশির ভাগ কুকুর। কিন্তু গত কয়েক মাসে দ্বীপে খাবারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাবারের উচ্ছিষ্টের সরবরাহও কমে গেছে। ফলে না খেয়ে মারা যাচ্ছে অনেক কুকুর। যেসব কুকুর মারা গেছে, সেগুলোর মাংস খেয়েছে বেঁচে থাকা অভুক্ত কুকুরগুলো। টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অতীতে বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচি না থাকায় এই দ্বীপের কুকুরের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। কিছু বেসরকারি সংস্থা গত বছর বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করলেও ব্যয়বহুল ও কৌশলগত জটিলতায় পারেনি। আমরা সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়গুলো জানিয়েছি।’ আবুল কালাম বলেন, ‘দ্বীপের কুকুরগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ও হোটেল রেস্টুরেন্টের খাবারের উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবনধারণ করে। কিন্তু পর্যটক না যাওয়ায় দ্বীপে খাবারের উৎস কমে গেছে। হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ। ফলে খাবার উচ্ছিষ্ট পাচ্ছে না কুকুরগুলো। আবার বর্ষায় ইঁদুরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিভিন্ন খাবার পেলেও শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক উৎস থেকে কুকুর তেমন খাবার পায় না। এ কারণে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের বেশির ভাগ বাসিন্দার আয়ের একমাত্র উৎস পর্যটন। বর্তমানে পর্যটক না থাকায় দ্বীপের অনেক বাসিন্দা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার সাড়ে ৪ হাজার কুকুরও রাতদিন দ্বীপে বিচরণ করছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও বিনষ্ট হচ্ছে। বাসিন্দারা প্রায়ই কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আবার কুকুরসহ অন্যান্য অবলা প্রাণীরও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।’ এদিকে কুকুরগুলোর এই নির্মম পরিণতির খবর শুনে ১১ জনের একটি দল নিয়ে গত রবিবার সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছেন ঢাকার তরুণ মো. আবদুল কাইয়ুম। সম্মিলিত প্রাণীকল্যাণ সমিতির ব্যানারে তারা কুকুরগুলোর জন্য ২ হাজার কেজি চাল, ৫০০ কেজি ডগফুড, ৫ হাজার ডিম, ১০০ কেজি চালসহ তিন টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে গেছেন। সেগুলো তারা পর্যায়ক্রমে রান্না করে কুকুরগুলোকে খাওয়াচ্ছেন। আবদুল কাইয়ুম জানান, ফেসবুকে খবর পেয়ে তারা সবাই মিলে কুকুরগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। যেখানে অনেক সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিনেতা নিলয় আলমগীর, তানিয়া বৃষ্টি, হিমিসহ ঢাকার বিনোদন জগতের অনেক তারকাও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে আপাতত ১০ দিনের জন্য ৩ টন খাবার নিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও তাদের সঙ্গে কয়েকজন চিকিৎসকও আছেন। যারা অসুস্থ কুকুরগুলোতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights