সেমিতে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা
শেষ হতে চলেছে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। সর্বোচ্চ ৪৮ দেশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু, এর পর ৩২ দলের নকআউট পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল। এখন শেষ চার অর্থাৎ সেমিফাইনালে এসে ঠেকেছে। ফাইনালের মাধ্যমে দুনিয়া কাঁপানো এ আসরের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেমিফাইনালে আবার চার চ্যাম্পিয়নের লড়াই। ১৫ জুলাই রাত ১টায় ফ্রান্স ও স্পেন মুখোমুখি হবে। ফ্রান্স ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন। ২০১০ সালে ট্রফি জিতেছিল স্পেন। ১৬ জুলাই একই সময়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। যারা ১৯৬৬ সালে বিশ্ব জয় করেছিল। চার বিশ্বচ্যাম্পিয়নই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।
আর দুটি ম্যাচ জিতলেই বিশ্ব জয়। শেষের দিকে এসে উত্তেজনাটা তুঙ্গে উঠেছে। আলোচনা একটাই-শেষ চারের লড়াইয়ে কারা জিতে স্বপ্নের ফাইনার খেলবে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বলাবলি হচ্ছিল আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ফ্রান্স এই তিন দেশের মধ্যেই চ্যাম্পিয়নের সম্ভাবনা বেশি। তবে একটি দলকে আবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হবে। এ সংখ্যা একে নেমে আসতে পারে। আসলে কারা খেলবে ফাইনাল? গতবারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে নাকি ইংল্যান্ড ও স্পেনের দেখা হবে। শেষ চারের মধ্যে আবার তিনটিই ইউরোপের। আর্জেন্টিনা পারবে কি ইউরোপিয়ানদের কাঁদিয়ে জার্মানি ও ইতালির চারবার করে জেতা শিরোপায় ভাগ বসাতে।
আর্জেন্টিনাএখন ম্যাচের সংখ্যা মূলত চারটি। দুটি সেমিফাইনাল, ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। সত্যি বলতে এখানে চ্যাম্পিয়নটাই গুরুত্ব, তৃতীয় হওয়ার কোনো কৃতিত্ব নেই। কী হবে আসলে বলাটা কঠিন। তবে শক্তি ও পারফরম্যান্সের বিচারে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখা যায়। তাহলে কি ইংল্যান্ড ও স্পেন সেমিতে হারতে এসেছে। না, এখানে কে যে টিকবে তা রেফারির শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত বলা যাবে না। তবে পরিসংখ্যান আবার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ম্যাচের আগে স্বস্তি এনে দিতে পারে। ৯৬ বছরে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ফাইনালে (১৯৩০, ১৯৯০, ২০১৪) তিনবার হারলেও কখনো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়নি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা প্রথমবার শেষ চারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে। আলবেসেস্তারা ফাইনাল খেলেছে ছয়বার। তবে সেমিফাইনালে লড়েছে পাঁচবার। ১৯৭৮ সালে নিজ দেশে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার দুই গ্রুপের আট দলের শীর্ষ দুই দল আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস ফাইনাল খেলেছিল। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেন ম্যারানোডারা। ১৯৯০-এ ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনালে ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে মেসিরা। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারান মেসিরা।
পরিসংখ্যান যাই হোক, তার মানে আবার কেউ ধরে নেবেন না ইংল্যান্ডকে হারানো সময়ের ব্যাপার। সেমিফাইনালে দুটিই যোগ্য দল। মেসি, মার্টিনেসরা ছন্দে থাকলেও ইংল্যান্ডের আছেন হ্যারি কেইন, বেলিংহাম, সাকা। তাদের নৈপুণ্যে দিশাহারা প্রতিপক্ষ। ১৯৬৬ সালের পর আর কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ইংল্যান্ড। এবার এতটা কাছে এসে সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে তারা। আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোয় রেফারিং নিয়ে সমালোচনা হলেও মেসিরা গতিময় খেলা খেলেই যাচ্ছেন। শিরোপা ধরে রাখার পথে মেসিরা বাধা পেরোতে সেরাটা দিয়েই লড়বেন। একটা উপভোগ্য লড়াইয়ের আশা করা যেতেই পারে।
