সোমালিল্যান্ড সফরে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উত্তেজনা তুঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক
সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করা অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে সফরে গেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রয়টার্স এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই-টোয়েন্টিফোর নিউজের তথ্যমতে, এই সফরে গিডন সার সোমালিল্যান্ডের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই নেতার একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই সফরের মাত্র ১০ দিন আগে ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সোমালিয়া সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেখানে সরাসরি সফর করা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘ সনদের অবমাননা করার অভিযোগ তুলে সোমালিয়া জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই এই বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ মেনে নেবে না।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্যই এই বন্ধুত্ব স্থাপন করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্র এবং আরব লীগের দেশগুলো এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ইসরায়েলের এই একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান এবং আরব দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই স্বীকৃতির পেছনে গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা বা এই অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও সোমালিল্যান্ড গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। দীর্ঘকাল ধরে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো বজায় রেখে চললেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি সোমালিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচিত।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
