সৌদি যাওয়ার স্বপ্ন, ১২ হাজার টাকা ও নদীতে মরদেহ: হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সৌদি আরব যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কৃষক হাবিবুর রহমান (৪০)। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা জুসের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে তাঁকে অচেতন করে। পরে টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১২ হাজার টাকা দাবি করে তারা। টাকা না পেয়ে হাবিবুরকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন আসামিদের জবানবন্দির বরাতে জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে একটি চায়ের দোকানে হাবিবুরকে আমের জুস পান করতে দেওয়া হয়। জুস খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রটি। পরে তাঁর পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ফুফুর নম্বরে ফোন করে জানানো হয়, হাবিবুর অসুস্থ হয়ে ঢাকার মহাখালীর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসার জন্য ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন। পরিবার হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে টাকা আদায় করতে না পেরে গভীর রাতে মাধবপুরের সোনাই নদীতে অচেতন হাবিবুরকে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৭ সেপ্টেম্বর নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের সততা ইটভাটার সামনে তিতাস নদী থেকে অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাবিবুরের স্ত্রী মাজেদা আক্তার মর্গে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তিনি নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে ২০ সেপ্টেম্বর হাবিবুরের বন্ধ থাকা সিম কার্ডটি নেত্রকোনায় একটি নতুন মুঠোফোনে চালু হওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। এর সূত্র ধরে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা থেকে মো. সাগর মিয়াকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরাইলের শাহাবাজপুর থেকে নিরঞ্জন দাসকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের স্বীকারোক্তিতে কিশোরগঞ্জ থেকে চক্রের মূলহোতা মো. মোতালেব আলী ও তাঁর সহযোগী বেলাল মীরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোতালেব আলী প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রীদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বস্ব লুট করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অজ্ঞান পার্টি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন জেলায় অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনেছি।’ গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights