সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে কমবে সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

গার্মেন্ট খাতের শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের (রুফটপ সোলার) উৎপাদন বাড়ানো গেলে দেশের চলমান জ্বালানিসংকটের চাপ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। একই সঙ্গে শক্তিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও দক্ষ প্রযুক্তির ব্যবহারে পোশাক খাতে অন্তত ১৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা কমানো যাবে। এজন্য প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে অংশ নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। ‘গার্মেন্টস খাতে শিল্পের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ : চীনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহমেদ ভূঁইয়া ও কর্মসূচি সহযোগী নূর ইয়ানা জান্নাত।

প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ হাজার ৩২০টি তৈরি পোশাক কারখানার ছাদে ১ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সম্ভব। এর মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় বিনিয়োগযোগ্য হিসেবে ২ হাজার ৩০৩টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী-সক্ষমতা ধরে রাখতে তৈরি পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘শিল্প খাতে রুফটপ সোলার উৎসাহিত করা গেলে জ্বালানিসংকট মোকাবিলা সহজ হবে। গত দুই-তিন বছরে নীরবেই পোশাক খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে।’ চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিনিয়োগকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও অপারেশন) স্বপন বণিক বলেন, ‘হাইড্রো বা উইন্ড পাওয়ারের মাধ্যমে গ্রিডে সীমিত বিদ্যুৎ যুক্ত হয়। তাই আগামী এক বছরের মধ্যে সোলার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের সব দপ্তরের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ শাহ নুসরত জাহান বলেন, ‘২০২৪ সালে বিডার হিট ম্যাপ অনুযায়ী ১৯ খাতের মধ্যে সোলার এনার্জি শীর্ষে ছিল। বর্তমানে সরকারের প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা একটি বড় অগ্রগতি।’ এ খাতে চীনা বিনিয়োগের আলাপ-আলোচনা পাইপলাইনে রয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির (বিএসআর) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, ‘২০১৫ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৫ ও ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২০২৬ সালে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন আড়াই থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে আমাদের এগোতে হবে।’ বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মিনহাজুল হক সিপিডির গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত কারখানাগুলোর তালিকা চেয়ে জানান, বিকেএমইএর ‘গ্রিন সেল’-এর মাধ্যমে কারখানাগুলোর সমস্যা সমাধানে তাঁরা সিপিডির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, হা-মীম গ্রুপের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশগত টেকসই বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights