স্কুল ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে আগানগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। প্রতিদিন দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

স্কুলে পড়তে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ পথচারীদের নিত্যসঙ্গী এখন দুর্গন্ধ। শুধু দুর্গন্ধ নয়, এই ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই ময়লার ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের পাশে ময়লার ফেলা হচ্ছে। ফলে সেখান থেকে দুর্গগ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের জানালা খোলা রাখলে, দুর্গগ্ধে পাঠদান ব্যাহত হয়। অনেক শিক্ষার্থী নাক চেপে স্কুলে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবির বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেন না। মাঠে খেলাধুলা করতেও কষ্ট হয়। উৎকট গন্ধে মাঝেমধ্যে তাদের বমি হয়। ফলে অনেকে স্কুলে আসতে চায় না। পঞ্চম শ্রেণির আরকে শিক্ষার্থী আকাশ বলেন, এই দুর্গন্ধে দরজা-জানালা বন্ধ করেও নাক চেপে ক্লাস করতে হয়। ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনার কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষও চাইছে ভাগাড়টি সেখান থেকে সরিয়ে পরিবেশ সুন্দর করা হোক। উপজেলা প্রশাসন ময়লা-আবর্জনা অপসারণের দ্রুত ব্যবস্থা করুক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ভাগাড়ের প্রচণ্ড দুর্গন্ধে ক্লাস নেওয়া যায় না। প্রায়শই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায়, অভিভাবক ডেকে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পেটের অসুখ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে স্কুলে বাচ্চাদের অনুপস্থিতির হার বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণ প্রয়োজন। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুপালী সাহা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৬৭০ শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। সাধারণ সময়ে তো বটেই, রোদ ও গরমের মধ্যে দুর্গন্ধ আরও প্রকোপ হয়। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেস বলেন, ময়লা আবর্জনা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে বায়ুদূষণের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে। এতে মানবদেহে জন্ডিস, টাইফয়েড ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি প্রতিফলিত হতে পারে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা ফেলার কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা নোওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যেন স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠ নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights