স্ত্রীসহ মাদুরোকে মুক্তির দাবিতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পাশাপাশি আটক করা হয়েছে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও। ‘ফার্স্ট লেডি’র বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করা, বিপুল অর্থ ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচারে মদত দেওয়ার মতো নানা গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। নিউইয়র্কে বিচারের আওতায় আনা হবে সিলিয়াকে। এদিকে, কারাকাসে রবিবার ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

মাদুরোপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ও মোটরসাইকেল আরোহীরাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছিলেন। তারা লাল-নীল-হলুদ রঙের ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা নাড়াচ্ছিলেন। লাল ফ্লানেলের শার্ট পরা এক ব্যক্তির হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্ত করো’। তার শার্টে মাদুরোর পরামর্শদাতা ও পূর্বসূরি প্রয়াত বামপন্থী নেতা হুগো শাভেজের ছবি ছিল। আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ভেনেজুয়েলা কোনো দেশের উপনিবেশ নয়’। যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ঘোষণার ইঙ্গিত করে, অজ্ঞাতকালীন একটি ‘সংক্রমণকাল’ চলাকালে ওয়াশিংটন দেশটি ‘পরিচালনা’ করবে। মাদুরোকে সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করার কথা, যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগে ‘নারকোটেররিজম’-সংক্রান্ত মামলায় তিনি অভিযুক্ত।

৫৬ বছর বয়সী নাইরদা ইত্রিয়াগো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত ‘মাদক সন্ত্রাসী’ ট্রাম্প। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সময় তার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করতে যে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে, তাতে ‘নিরপরাধ মানুষ’ নিহত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাতের শেষ প্রহরে চালানো ওই হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছে—তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার হাসপাতালগুলো।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, মাদুরোর নিরাপত্তা দলের ‘বড় একটি অংশকে’ ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনা সদস্য ও বেসামরিক মানুষও মারা গেছে। তবে তিনি কোনো সংখ্যা জানাননি। একটি চিকিৎসক সংগঠন জানিয়েছে, প্রায় ৭০ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছে। কারাকাসের বিক্ষোভকারীরা ধারণা প্রকাশ করেন, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্য বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, যার সুযোগে মার্কিন বিশেষ বাহিনী দেশের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিতে ঢুকে তাকে আটক করতে পেরেছে। ৬৯ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক, যিনি নিজের নাম দেন ‘পাপা হুয়াঞ্চো’, বলেন, ‘কিভাবে সম্ভব… যে বিমান প্রতিরক্ষা কাজ করল না? নিকোলাস মাদুরো বিশ্বাসঘাতকদের হাতেই অপসারিত হয়েছেন, কারণ তার যে পরিমাণ নিরাপত্তা ছিল, এতে এমনটা কখনোই ঘটার কথা নয়।’ মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা রবিবার সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক অডিও বার্তায়ও বাবার আশপাশে গুপ্তচর থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস একদিন বলে দেবে, সেই বিশ্বাসঘাতক কারা ছিল।’ সূত্র: এপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights