স্প্যানিশ সীমান্তে মৃত্যু ছাড়াল ৮৩, সৈকতে আটকা হাজারো অভিবাসীর মানবেতর দিনযাপন

অনলাইন ডেস্ক

ক্ষুধার জ্বালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যেতে না পারার হতাশা—সব মিলিয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সিউটায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো অভিবাসী। মরক্কো সীমান্ত দিয়ে আকস্মিক এই বিশাল অনুপ্রবেশের পর ছোট্ট এই ভূখণ্ডে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এক সংকট।

এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে তাবু গেড়েছেন সাব-সাহারান আফ্রিকার শত শত মানুষ। কনকনে বাতাস থেকে বাঁচতে তোয়ালে মুড়িয়ে বালুর ওপর শুয়ে আছেন তারা; পেছনে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। স্পেন সরকার জানিয়েছে, গত চার দিনে প্রায় ৬৯,৫০০ অভিবাসী মরক্কোয় ফেরত গেছে, যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ৫০ হাজারের চেয়ে অনেক বেশি। মর্মান্তিক এই সীমান্ত পারাপারের ঘটনায় স্পেনে ৭২ জন এবং মরক্কোয় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিউটার নেতা হুয়ান জেসুস বিভাস জানান, সেখানে এখনও ৩ থেকে ৫ হাজার অভিবাসী আটকে আছেন। উপচে পড়া ভিড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তবে আইনি সুরক্ষার কারণে ৮৬২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না।

এই অনুপ্রবেশ ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী ক্ষোভ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস ইতালির বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ইইউর সমর্থন চেয়েছেন। মঙ্গলবার ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

স্প্যানিশ গোয়েন্দাদের দাবি, মরক্কো পরিকল্পিতভাবে না করলেও তাদের সীমান্তরক্ষীদের শিথিলতার কারণেই এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অন্যদিকে, আগাম গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ায় স্পেনের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights