স্বাবলম্বী হবেন উল্লাপাড়ার দরিদ্র নারীরা
অনলাইন ডেস্ক
অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। গত ১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে উল্লাপাড়ার রংধনু ডিজিটাল স্কুল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ, উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণস্বাবলম্বী হবেন উল্লাপাড়ার দরিদ্র নারীরাবসুন্ধরা শুভসংঘ উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক রাশেদা সুলতানা রোজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে সব সময়ই কাজ করে বসুন্ধরা গ্রুপ। শুভসংঘের মাধ্যমে সারা দেশে নানা রকম কাজ চলছে। গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলছি। প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে প্রত্যেককে একটি সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হচ্ছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার নারী উপকৃত হয়েছেন, স্বাবলম্বী হয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে এই নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে আমাদের দেশের সার্বিক অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। তাঁদের এগিয়ে নিতে পারলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘ।’
ইউএনও এ টি এম আরিফ বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। জীবনযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক আপনারা। বসুন্ধরা শুভসংঘ থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে দক্ষ করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপ আজ আপনাদের সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। এখন এই প্রশিক্ষণ ও হাতিয়ার নিয়ে জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে আপনারা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আশা করছি স্বাবলম্বিতার পথে আপনাদের পা পড়েছে অলরেডি। সঠিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকলে অবশ্যই সফল হবেন। দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর জন্য বসুন্ধরার এটি একটি অনন্য উদ্যোগ।’
উপকারভোগী আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এই সেলাই মেশিন পেয়ে আমি নতুন স্বপ্ন দেখছি। এখন কাজ করে স্বামীর পাশে দাঁড়াতে পারব এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব। এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।’
আরেক উপকারভোগী অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘সরকারি আকবর আলী কলেজে পড়ার পাশাপাশি আমি তিন মাস সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। মেশিনটি পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। এখন নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করব এবং পরিবারকে সহযোগিতা করব।’
সরকারি আকবর আলী কলেজের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসও সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এই মেশিনটি হবে আমার অনেক বড় সম্বল। অভাবের সংসারে বাবা ঠিকমতো পড়ার খরচ দিতে পারতেন না। এখন থেকে নিজের আয়েই পড়তে পারব। অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপকে। দোয়া করি, আল্লাহ বসুন্ধরার মালিকদের দীর্ঘ জীবন দান করুন।’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা খাতুনও প্রশিক্ষণ নিয়ে সেলাই মেশিন পেয়েছে। খুবই আনন্দিত দেখাচ্ছিল তাকে। বারবার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখছিল সেলাই মেশিনটি। যেন সে তার স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখছে। বেশ উচ্ছ্বসিত মোহনা বলে, ‘আমি প্রশিক্ষণ নিয়েছি কাজ শেখার জন্য। আমাকে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে কল্পনাও করিনি। বাবা পড়ার খরচ দিতে পারতেন না। খুব কষ্ট করে পড়তাম। এখন আর পড়তে সমস্যা হবে না। সেলাই মেশিন দিয়ে কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালাতে পারব। আবার বাবাকেও সহযোগিতা করতে পারব। আমাকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।’
