হকার বা রিকশা নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পারবে না : ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও হকারের সংখ্যা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন?’ শীর্ষক নগর সংলাপে এ মন্তব্য করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

নগর সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার এবং প্রকৌশলী-পরিকল্পনাবিদ মো. নুরুল্লাহ।

এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘নদীভাঙা বা কর্মহীন মানুষ ঢাকায় এসে কোনো লাইসেন্স বা ফি ছাড়াই রিকশা চালানো শুরু করছে। এভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের শহর পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, এখন থেকে রাজধানীতে কোনো হকার বা রিকশা নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পারবে না। কোথায় কতজন হকার বসতে পারবেন, তারও সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ‘হলিডে মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের পর তিন মাস হলো নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এখনই সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে।’

তিনি বলেন, অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় দিয়ে দেখতে হবে সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে কি না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকার শৃঙ্খলা ফেরাতে সব রাজনৈতিক দলকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, ‘৫৪ বছর আগে ঢাকা শহরে প্রায় ৫০টি প্রাকৃতিক খাল ও লেক ছিল। এখন কতটি আছে, তা সবাই জানেন। একক কোনো সংস্থার পক্ষে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারা বছরই ঢাকার বিভিন্ন সড়ক কখনো বিদ্যুৎ, কখনো গ্যাস, আবার কখনো পানির লাইনের জন্য খোঁড়া হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে এবং জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি এক শহরকে দুই সিটি করপোরেশনে ভাগ করাও ব্যবস্থাপনার বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ৪ কোটিতে এবং ২১০০ সালে তা ৬ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া নয়। ভবিষ্যতে জনসংখ্যা আরও বাড়বে। তাই এক ইঞ্চি আবাদি জমিও যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে। আবাসন, শিল্প ও বনায়নের জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল নির্ধারণ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

সংগঠনের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি একেএম শহিদ উদ্দিন, বায়ুমণ্ডলী দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং স্থপতি খালিদ মাহমুদ শাহীন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights