‘হতে পারে আমি ভুক্তভোগীদের পাশেই ছিলাম’, এপস্টাইন ইস্যুতে বিল গেটসের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জেফরি এপস্টাইনের কোনো ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও, তাদের উপস্থিতিতে তিনি থেকে থাকতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া তার সাক্ষ্যটির অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে ক্যাপিটল হিলে স্বেচ্ছায় দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ধনকুবের বিল গেটস স্পষ্ট জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী এপস্টাইনের সঙ্গে তার তিন বছরের সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার। সেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক বা যৌন নিপীড়নমূলক ঘটনা তার সামনে ঘটেনি।

তবে কমিটির ডেমোক্রেটিক সদস্য রবার্ট গার্সিয়া উল্লেখ করেন যে, তদন্তে দেখা গেছে এপস্টাইনের কয়েকজন সাধারণ কর্মচারীও তার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। ফলে গেটস কখনোই কোনো ভুক্তভোগীর আশেপাশে ছিলেন না—এমন দাবি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এই যুক্তি মেনে নিয়ে গেটস জানান, এপস্টাইনের একটি উড়োজাহাজে বৈঠকের শেষে তিনি কয়েকজন নারী কর্মচারীকে দেখেছিলেন, তাই পরোক্ষভাবে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে থাকার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের আশায় ২০১১ সালে গেটস তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং এপস্টাইনের অপরাধের ইতিহাস জানা সত্ত্বেও এই সুযোগ হাতছাড়া না করার সিদ্ধান্তে এখন তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষ্য অনুযায়ী, এপস্টাইন একপর্যায়ে বিল গেটসের বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেল বা চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৪ সালে গেটস তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর, এপস্টাইন এক নারীর পেছনে করা খরচের ক্ষতিপূরণ চেয়ে গেটসকে ইমেইল পাঠান, যা গেটস সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ছাড়া এপস্টাইনের নিজের কাছে ড্রাফট করে রাখা কিছু ইমেইলে গেটসের বিরুদ্ধে যৌনরোগ লুকানো ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মতো তীব্র অভিযোগের কথা উঠে এসেছে, যা গেটস সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

একই তদন্তের অংশ হিসেবে এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফের সাক্ষ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রফ তার সাবেক বসকে একজন ‘চতুর প্রতারক’ হিসেবে আখ্যা দিলেও তার কোনো অপরাধের কথা জানতেন না বলে দাবি করেছেন। গ্রফ জানান, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইনের একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন, যদিও তাদের মধ্যকার আলাপের বিষয়বস্তু তার জানা নেই। অন্যদিকে, ট্রাম্প বরাবরই এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার বিষয় অস্বীকার করে আসছেন। এপস্টাইনের ম্যাসাজ অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ব্যক্তিগত সূচি তদারকি করার দায়িত্বে থাকা গ্রফের এমন নির্দোষ দাবি অবশ্য ভুক্তভোগীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস এই অন্ধকার নেটওয়ার্কের পেছনের সত্য উন্মোচনে তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights