হত্যাচেষ্টা মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বিরকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই আসামি কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত।

ওই আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আটক থাকায় তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ভিকটিম মুস্তাঈন বিল্লা সাব্বির। ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন রবীন্দ্র স্বরনী রোড এলাকায় অবস্থান কালে আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিতভাবে গুলি চালান। এ সময় একটি গুলি বাদীর বাম হাতের কনুই এর মাঝখানে লেগে বিপরীত পাশে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনিসহ আরো কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

উপস্থিত লোকজন বাদীকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে উত্তর পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক লাখ টাকা মুচলেকায় পাসপোর্ট জমার শর্তে কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।

কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন আদালত। আমরা জামিননামা দাখিল করেছি। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights