হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী মোবারক হোসেন (৪৮) নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূর্বে এ মামলায় কাজী মিজান আড়াই মাস কারাগারে ছিলেন। বুধবার দুপুরে মতলব উত্তর আমলি আদালতের বিচারক নাজমুল হাসান চৌধুরী তার জামিন নামঞ্জুর করে এআদেশ দেন।

চলতি বছরে ১৭ জুন হত্যার ঘটনায় নিহত যুবলীগ কর্মীর ভাই আমির হোসেন কালু , কাজী মিজানকে প্রধান আসামি করে ৩১ জনের নামে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ১৮ জুন কাজী মিজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর কারাগার থেকে কাজী মিজান মুক্তি পান।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম মিয়া জানান, মোবারক হোসেন বাবু হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাজী মিজানুর রহমান উচ্চ আদালতে দেওয়া জামিন ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ৫ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এই জামিনের স্থগিতাদেশ দেন। ১২ সেপ্টেম্বর জামিন স্থগিতাদেশের সুপ্রিম কোর্টের কপি চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জামিন ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের খবরে মামলার নির্ধারিত তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর আসামি কাজী মিজান আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে কাজী মিজান, কাজী মতিন ও কাজী হাবিব জামিন পেলে ওই দিনই মামলার বাদী ও নিহত বাবুর ভাই আমির হোসেন কালু সুপ্রিম কোর্টে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালত কাজী মিজানুর রহমানকে উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের ওপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম মিয়া ও অ্যাডভোকেট আল আমিন উজ্জ্বল বলেন, উচ্চ আদালতে তথ্য গোপন করে কাজী মিজান জামিনে বের হয়েছিল। আমরা বাবু হত্যা মামলায় ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights