হরমুজে জাহাজ চলাচল ১০৫ শতাংশ বেড়েছে
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ আর আঞ্চলিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ পারাপারের সংখ্যা এক লাফে ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫৩টিই ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ, যার বেশিরভাগকেই ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূলত চলমান মাইন অপসারণ কার্যক্রম এবং ওমানের সহায়তায় তৈরি হওয়া নতুন রুট ব্যবহারের ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসানের পর এই অঞ্চলের নৌ-যোগাযোগে গতি ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি। বুধবার ওমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সাথে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালীতে একটি নতুন নৌ-করিডোর চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এর তীব্র বিরোধিতা করে তেহরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই রুট তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অনুমোদন এবং নৌবাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা না করে কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
এদিকে ওমানও এই নতুন রুটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতেই এই করিডোর তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই রুট ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি বা শুল্ক নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে যে ৬০ দিনের একটি সাময়িক চুক্তি হয়েছে, তা চূড়ান্ত করার আলোচনা এখনও চলছে। এর মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের সময় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূত্র: এনডিটিভি
