হরমুজ ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে ইরানের আল্টিমেটাম
অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত পূরণের জন্য ওয়াশিংটনকে চার থেকে পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইরান। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শর্তের মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং দেশটির অবরুদ্ধ কিছু সম্পদ বা অর্থ ছেড়ে দিলে হরমুজ খুলে দিতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই বলেছেন, শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চার বা পাঁচ দিন’ সময় দিয়েছে। এ সময়ে ওয়াশিংটন শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করলে তেহরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
তবে জানিয়েছেন, সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই তেহরান তার ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ নির্ধারণ করবে। রেজাই বলেন, শর্তগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে এবং একযোগে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটন আগে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলবে না কিংবা কোনো আলোচনায়ও বসবে না।
তার এই বক্তব্য ইরানের আগের অবস্থানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। এর আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তবে সাত দিনের মধ্যেই কৌশলগত সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রেজাই বলেন, অনেক কথা হয়েছে, অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন আমাদের কাজে নামতে হবে। ইরানের ‘প্রেস টিভি’-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমে মূল ফারসি বক্তব্যের অনুবাদ বা সারসংক্ষেপ করা হয়েছে, তা আরও সংক্ষিপ্ত: আলোচনা যথেষ্ট হয়েছে। এবার পদক্ষেপ নিন।
তেহরান চেয়েছিল ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করুক, তারা কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে এবং আলোচনার জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণে সম্মত হোক। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৬ সেপ্টেম্বর তেহরানের এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই সতর্কবার্তায় রাজনৈতিকভাবে অনেক কম সময়ের একটি সময়সীমা যুক্ত করা হয়েছে। রেজাই বলেছেন, তেহরানের শর্ত পূরণের জন্য ওয়াশিংটনের হাতে এখন মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন সময় আছে।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আলোচনার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাতটি পূর্বশর্তের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা।ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা আরও বাড়ায়, তবে ইরান অন্য কোনো স্থানে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি সতর্ক করেছেন, লোহিত সাগর এবং ইয়েমেনের কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব আল-মানদাব প্রণালির আশেপাশে সংঘাতের নতুন কোনো রণাঙ্গন তৈরি হতে পারে। দেশটির কর্মকর্তারা এই সংকটকে ওয়াশিংটনের সামনে একটি ‘পছন্দ’ বা সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। সামরিক চাপ কমিয়ে কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া, নতুবা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার মুখোমুখি হওয়া।
একই সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। এর জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের ভাষায় ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ গ্রহণ করে, তবে তারা আলোচনা করতে এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
