হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা, জাতিসংঘের উদ্ধারকাজ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘ। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রথম সেখানে বড় ধরনের কোনো হামলার খবর পাওয়া গেল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি ড্রোন ব্যবহার করে ইরান এই হামলা চালিয়েছে। যদিও তেহরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।

হামলার ফলে জাহাজটির ব্রিজের ক্ষতি হলেও কোনো হতাহত বা পরিবেশ বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পরপরই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ওই অঞ্চলে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে উদ্ধারের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ওই এলাকায় জাহাজ ও নাবিকরা আটকা পড়েছিলেন এবং সম্প্রতি মার্কিন-ইরান সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল যে, শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত রুট ব্যবহার করলেই জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এই হামলা তেহরানের সেই কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তাদের আলোচনার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তারা জাহাজ চলাচলের জন্য টোল বা মাশুল আদায়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারের জন্য কোনো দেশই টোল বা মাশুল দাবি করতে পারে না।

এই হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিকে আগামী ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত রাখার অঙ্গীকার থাকলেও, নতুন এই ঘটনায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আগামী ৩০ জুন থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরুর কথা থাকলেও এই হামলা পুরো শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights