হরমুজ প্রণালিতে ৩টি তেলের ট্যাংকার আটকে দেওয়ার দাবি আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলের ট্যাংকার আটকে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো আটকে দিয়েছে আইআরজিসি।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর দাবি, ওই তিনটি তেলের ট্যাংকার তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে অনিরাপদ ও বেআইনি পথে যাত্রা অব্যাহত রেখেছিল। তাই বাধ্য হয়ে সেগুলোতে হামলা চালিয়ে গতিরোধ করা হয়েছে।

মূলত ওমানকে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে যুক্ত রাখলেও, হরমুজ প্রণালির পরিচালনা ও টোল আদায়ের একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে অনড় তেহরান।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা নতুন করে যুদ্ধ শুরু করাসহ যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এরই মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর ওপর আইআরজিসির ছোড়া একাধিক ‘সারপ্রাইজ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবও দাবি করেছে, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরাকের ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পাঠানো ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা তেহরান অস্বীকার করে জানিয়েছে, মার্কিন স্বার্থে আঘাতের দায় তাদের ওপর চাপানো মারাত্মক ভুল।

জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জেরে সেন্টকম ও সৌদি সামরিক বাহিনী যৌথভাবে ইরাকে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের আস্তানায় ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর কড়া জবাব দিতেই ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ‘সন্ত্রাসীদের’ একাধিক অস্ত্রের গুদাম ও রসদ কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে মার্কিন স্বার্থে ৬০০টির বেশি হামলার চেষ্টাকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সামরিক জবাব এড়াতে আইআরজিসিকে এসব হামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেন্টকম।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, সেন্টকমের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা এই যৌথ পাল্টা জবাব দিয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, এই যৌথ বিমান হামলায় ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা প্রদেশে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) সদর দপ্তরেও ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পিএমএফের অন্তত দুই সদস্য আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হরমুজ থেকে ইরাক—পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এখন সংঘাতের নতুন মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights