হরমুজ বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো বাড়তে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার এশিয়ার সকালের লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার ঠিক আগ মুহূর্তে দুই সপ্তাহের এই শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর স্থায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরান জানিয়েছে, যদি হামলা অব্যাহত থাকে তবে তারা এমন জবাব দেবে যা হবে অত্যন্ত অনুশোচনামূলক। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৭০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২.৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৯৬.৯০ ডলারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের এই দাম অনেক বেশি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল এই জলপথ দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া এই প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। যদিও মালয়েশিয়া, ভারত ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সমঝোতা করেছে, তবে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে। প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে এখন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি জাহাজ পার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আজ থেকেই স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়, তাহলেও জমে থাকা জাহাজের জট সরাতেই অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ সিম মোহ সিয়ং জানিয়েছেন, মার্কিন-ইরান আলোচনা এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকায় তেলের বাজার অস্থির। অন্যদিকে ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিকসের ড্যানি প্রাইস সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও গ্যাস শোধনাগারগুলো মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ফলে আগামী অন্তত এক বছর জ্বালানির দাম চড়া থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ধস নেমেছে। জাপানের নিক্কেই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় কি না তা নিয়ে অস্পষ্টতা এবং হিজবুল্লাহর রকেট হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights