হর্স রাইডিংয়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তা
সুদীপ্ত দাস
রাজধানীতে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হর্স রাইডিং বা ঘোড়সওয়ারি। পুরুষদের তুলনায় নারীদের আগ্রহই বেশি। শিক্ষার্থী থেকে চাকরিজীবী-বিভিন্ন বয়স ও পেশার নারীরা ছুটছেন ঘোড়সওয়ারি স্কুল ও ক্লাবগুলোতে। প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের মতে, বিনোদনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতেও ঘোড়সওয়ারি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একসময় সামরিক বাহিনী, গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন কাজ কিংবা ঘোড়দৌড়ের মতো আয়োজনে ঘোড়সওয়ারির প্রচলন ছিল। এখন যান্ত্রিক নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিতে নগরবাসী ঘোড়সওয়ারির দিকে ঝুঁকছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেও এই শখ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীতে পেশাদার ঘোড়সওয়ারি শেখা ও উপভোগের জন্য গড়ে উঠেছে একাধিক রাইডিং স্কুল ও একাডেমি।
বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল, ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব, আল ফুরসান ইকুয়েস্ট্রিয়ান একাডেমি, হর্স রাইডিং ট্রেনিং একাডেমি ও ঢাকা ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের সুযোগ। এসব প্রতিষ্ঠান পেশাদারভাবে ঘোড়সওয়ারি শেখার পাশাপাশি এককালীন আনন্দভ্রমণের সুযোগও দিচ্ছে।
সাধারণত দুই ধরনের ঘোড়সওয়ারির সুযোগ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এককালীন আনন্দভ্রমণ বা জয় রাইডে ১৫ মিনিটের জন্য ঘোড়ার পিঠে চড়তে খরচ হয় ৫০০ টাকা। প্রশিক্ষিতদের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের ট্রেইল রাইডের জন্য খরচ হয় ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ১০ থেকে ২০টি সেশনে পেশাদার ঘোড়সওয়ারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব কোর্সে ঘোড়ার যত্ন, ট্রটিং, ক্যানটারিং ও গ্যালপিং শেখানো হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ঘোড়সওয়ারির পাশাপাশি হর্সব্যাক আর্চারির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
পেশাদার ঘোড়সওয়ারির এক মাসের মৌলিক কোর্সে সাধারণত আটটি ক্লাস থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য এ কোর্সের ফি ৫ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। দুই মাসের উন্নত কোর্সে ১৬টি ক্লাসে পেশাদার ঘোড়সওয়ারি ও ঘোড়ার পরিচর্যা শেখানো হয়। ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থাকে তাত্ত্বিক ক্লাসও। এ কোর্সের ফি ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সুবিধাজনক সময়ে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে কোর্স ফি ১৮ হাজার টাকা।
আল ফুরসান ইকুয়েস্ট্রিয়ান একাডেমির মালিক তাহিয়া ইসলাম বলেন, বিশ্বজুড়ে গলফ ও ঘোড়সওয়ারিকে ‘এলিট স্পোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও হর্স রাইডিং সংস্কৃতি সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এ খেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।
শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে বুরাক হর্স রাইডিং স্কুলে ব্যক্তিগত হর্স রাইডিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মেঘলা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ঘরোয়া শখের বাইরে অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। প্রথমে ভয় পেলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘোড়ার ছন্দের সঙ্গে মিশে যান। শুরুর কয়েকটি ক্লাসে কিছুটা কষ্ট হলেও চতুর্থ ক্লাসে এসে ঘোড়ার সঙ্গে চমৎকার বন্ধন তৈরি হয়।
সিলেটের একটি ব্রিডিং ফার্ম থেকে যাত্রা শুরু করে বুরাক হর্স রাইডিং স্কুল। ঢাকার ৩০০ ফিটে দুটি ঘোড়া নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্কুলটি ১০০ ফিটের পাশে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে ১৯টি ঘোড়া রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও রাইডিংয়ের জন্য বর্তমানে ছয়টি বড় ঘোড়া ও তিনটি পনি ঘোড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চার অংশীদারের একজন সাদাত ইসলাম জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হর্স রাইডিংকে খেলাধুলার অংশ হিসেবে তাঁদের পাঠ্যক্রমের আওতায় আনতে চাচ্ছে। এ নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া তাঁরা ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের হর্সব্যাক আর্চারি ও টেন্ট পেগিংয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাইডিং স্কুলের মালিকরা জানান, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে রাইডিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব স্কুল ও ক্লাব থেকে ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরি করা সম্ভব।
