হলো না হ্যাটট্রিক শিরোপা

ইউরোপ জয় করে দেশে ফিরেছেন তপু বর্মণরা। সান মারিনোকে হারিয়ে প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান দেশের বিপক্ষে জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পুরুষ জাতীয় দলের ঐতিহাসিক জয় আত্মবিশ্বাসী করেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের অভাবে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ভারত জয় করা হয়নি ঋতুপর্ণা, তহুরা খাতুন, আনিকাদের। হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়াও হয়নি। ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ার মারগাওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ১-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে স্বাগতিক ভারত। ২০১৯ সালের পর ফের শিরোপা জিতেছে তারা। বাংলাদেশসেবার দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে। বাংলাদেশ সর্বশেষ দুই আসরে শিরোপা জিতেছিল নেপালের মাটিতে নেপালকে হারিয়ে। ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়েছিল ২-১ গোলে এবং ২০২২ সালে ৩-১ গোলে। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে ফাইনালে তখন তারা হেরেছিলেন ১-৩ গোলে। ২০১০ সালে শুরু আসরের এবার অষ্টম। ভারত টানা পাঁচটিসহ ছয়বার শিরোপা জিতল এবং বাংলাদেশ জিতেছে দুবার। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শহর গোয়ায় বাংলাদেশ ও ভারত এর আগে আরও একবার মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে সাফ পুরুষ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সেবার ভারত ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। ভারতের মাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো ফাইনালে বাংলাদেশ জিততে পারেনি। এবার সুযোগ ছিল নারী চ্যাম্পিয়নশিপে। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ভুলে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে পিটার বাটলারের দল। ভারত এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অপরাজিত থেকে। গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে খাওয়া গোলটি এবারের আসরে দলটির বিপক্ষে একমাত্র গোল। দুই দল লিগ পর্বে একবার মুখোমুখি হয়েছিল এবং ম্যাচটি ০-৩ গোলে হেরেছিলেন ঋতুপর্ণারা। গতকাল ফাইনাল শুরুর পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাটলারের শিষ্যরা। আসরে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে ছিলেন তহুরা খাতুন। তিনি ছিলেন গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গতকাল ফাইনালে আনিকাকে মূল স্ট্রাইকার রেখে একাদশ সাজান বাটলার। মালদ্বীপের বিপক্ষে গোল করা ছাড়া আর কোনো ম্যাচে জালের দেখা পাননি সুইডিশ প্রবাসী আনিকা। অথচ নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে উঠনো গোলের নায়িকা সাগরিকাকে খেলানো হয়নি শুরুতে। তিনি মাঠে নামেন ৭২ মিনিটে।

আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকার মাঝেই প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ভারত। কাউন্টার অ্যাটাকে ভারতকে এগিয়ে নেন পেয়ারি জাজা। ডি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে শট নেন জাজা। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সুরভী ব্লক করেন। বল তার পায়ে লেগে হাওয়ায় ভেসে আগুয়ান গোলরক্ষক মিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে (১-০)। কিছু করার ছিল না মিলির। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে সমতা আনে বাংলাদেশ (১-১)। আনিকা থেকে বল পেয়ে তহুরা দারুণভাবে ডিফেন্সচেড়া পাস দেন ঋতুপর্ণাকে। ঋতুপর্ণা বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ে মাটি কামড়ানো আড়াআড়ি শট নেন এবং ভারতের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। প্রথমার্ধ শেষ ১-১ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর প্রথম মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত (২-১)। পেয়ারি জাজার ক্রসে দারুণ হেডে গোল করেন সানফিদা। ওই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। ৮৩ মিনিটে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে স্বাগতিকরা। কম সেরতো বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights