হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হচ্ছে গর্ভনিরোধক টিকা

অনলাইন ডেস্ক

বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় হাতিরা ক্রমাগত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ছে থাইল্যান্ডে। এতে করে দেশটিতে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। প্রথমবারের মতো বন্য হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গর্ভনিরোধক টিকা ব্যবহার শুরু করেছে দেশটি। বুধবার দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

দপ্তরের পরিচালক সুখি বুনসাং বলেন, গত সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে তিনটি মাদি হাতিকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বন্যহাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি জানান, দেশের পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশে হাতির জন্মহার বছরে প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে অন্য অঞ্চলে মাত্র ৩ শতাংশ। এই হার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত বাড়তে পারে।

পশু-চিকিৎসকরা এই সপ্তাহে কোনো চেতনানাশক ছাড়াই ‘ডার্ট গান’ এর মাধ্যমে দূর থেকে টিকা প্রয়োগ করেছেন। থাইল্যান্ডে ২০১৫ সালে বন্য হাতির সংখ্যা ছিল ৩৩৪টি, যা এখন প্রায় ৮০০। এছাড়া বন্দি বা পোষা অবস্থায় আরো কয়েক হাজার হাতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বে দেশটিতে প্রায় ২০০ মানুষ ও শতাধিক হাতি মারা গেছে। টিকা নেওয়া তিনটি হাতি বর্তমানে সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হবে। দুই বছর আগে চিয়াং মাই প্রদেশে বন্দি সাতটি হাতির ওপর এই টিকার সফল পরীক্ষা করা হয়েছিল। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে এই জন্মনিয়ন্ত্রণ টিকার আওতায় আনা হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও ১৫টি হাতিকে। সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস, পাতায়া মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights