হালুয়াঘাটে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডা

অনলাইন ডেস্ক

সাহিত্যচর্চা, বই পড়ার অভ্যাস ও সৃজনশীল চিন্তার প্রসারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বসুন্ধরা শুভসংঘ উপজেলা শাখার উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাহিত্য আড্ডা ও পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আড্ডায় প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘একাত্তর ও একজন মা’ নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপন্যাসটির বিষয়বস্তু, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাস্তবতা, একজন মায়ের জীবনসংগ্রাম এবং মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

‘একাত্তর ও একজন মা’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল ও বিভীষিকাময় সময়ে এক বিধবা মায়ের জীবনসংগ্রাম ও সন্তানদের নিয়ে তার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ১০ সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়া ওই মায়ের পরিবারে বড় ছেলে নাইট কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার পাশাপাশি ঢাকা থেকে টঙ্গীতে চাকরি করে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করে। বড় মেয়ে ও মেজো ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী, আর ছোট সন্তানটি তখন মায়ের কোলে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যয় এবং ভয়াবহ সেই সময়ে সন্তানদের নিরাপদে রাখার জন্য একজন মায়ের আকুলতা ও অদম্য বেঁচে থাকার লড়াই উপন্যাসটিতে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে উঠেছে। পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি উপন্যাসটির মানবিক ও সাহিত্যিক দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন।

সাহিত্য আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম মিশু ও নাফিউল হাসান মুবিন। আরও অংশ নেন শাখার সভাপতি জাহিদুজ্জামান শিহাব, সহসভাপতি জিহাদ ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল তামিম, রায়হান খান পাঠান, ফাহিম ইসলাম শুভ, সুজিত ভাস্কর্য, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফাঁকরিয়া সিথি, প্রচার সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সাদমান, কার্যকরী সদস্য আঁখি মনি, জুঁই, সারা, বর্ষা, প্রিয়াঙ্কা, শুভশ্রী, মেঘলা, দীপা, রাহুল ও ঐশীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য।

আড্ডায় সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা, বই পড়ার গুরুত্ব, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পছন্দের বই, সাহিত্যপাঠের অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার নানা অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

আয়োজকেরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে। এ সময়ে বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মননশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, তরুণদের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, পাঠচক্র ও জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের চিন্তা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights