হিমালয় অঞ্চলে চলতি দশকের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়সমূহ
অনলাইন ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের দ্রুত গলন এবং পর্বতগাত্রে অনিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামো নির্মাণের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার হিমালয় পর্বতমালা অঞ্চল বারবার ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। চলতি দশকে নেপাল ও ভারতের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ঘটা মারাত্মক বিপর্যয়গুলো এই ভঙ্গুর পরিবেশের ভয়াবহ রূপটিই তুলে ধরে।
আগস্ট ২০২৬
হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে তিব্বত ও নেপালের ভোটে কোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বরফ ধস ও পাহাড় ধ্বসের ফলে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বহু বিদেশি পর্যটকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন। ধাদিং জেলার গালছি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে নদী উপচে রাস্তাঘাট ও সেতু নিশ্চিহ্ন হয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
আগস্ট ২০২৫
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আকস্মিক বন্যা ও প্রবল ভূমিধসের ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ হন। একাধিক গ্রাম ও সংযোগ সড়ক পাহাড়ি কাদার তোড়ে ভেসে যায়।
সেপ্টেম্বর ২০২৪
মুষলধারায় টানা বৃষ্টির কারণে নেপালজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও পর্বতগাত্রে ধস নামে। এই দুর্যোগে অন্তত ৬৬ জন প্রাণ হারান এবং শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।
নভেম্বর ২০২৩
উত্তরাখণ্ডের শীলক্যারা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাহাড়ি সুরঙ্গ ধসে পড়ে ৪১ জন নির্মাণ শ্রমিক আটকা পড়েন। প্রায় ১৭ দিনের টানা উদ্ধার অভিযান শেষে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হলেও, হিমালয়ের ভঙ্গুর ভূতাত্ত্বিক গঠনে অপরিকল্পিত ভারী নির্মাণের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়।
অক্টোবর ২০২৩
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে অতিবৃষ্টির কারণে বরফ গলা হিমবাহ সমৃদ্ধ লেক ফেটে আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করি বন্যা দেখা দেয়। তিস্তা নদীর পানির তোড়ে প্রাণ হারান ১৭৯ জন মানুষ এবং একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
জানুয়ারি ২০২৩
উত্তরাখণ্ডের পবিত্র ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর জোশীমঠে একের পর এক বাড়িঘর ও রাস্তায় মারাত্মক ফাটল দেখা দেয়। চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২০০টি পরিবারকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ধ্বংসের মুখে থাকা ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়। ভূমির ভারসাম্য হারিয়ে ফাটল ধরার পেছনে অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকেই দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
অক্টোবর ২০২১
উত্তরাখণ্ডে অসময়ের অতিবৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি উপচে পড়ে ও সেতু ধসে যায়। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে অঞ্চলটিতে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।
ফেব্রুয়ারি ২০২১
উত্তরাখণ্ডের ধৌলীগঙ্গা নদী উপত্যকায় বিশাল হিমবাহের অংশ খসে পড়ে সৃষ্ট বন্যায় তছনছ হয়ে যায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। পানির সাথে নেমে আসা বিশাল পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
সূত্র: রয়টার্স
