হুথিদের হুমকিতে পথ ঘোরালো চীন ও ভারতগামী সৌদির দুই তেলবাহী ট্যাংকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অনলাইন ভার্সন
সংগৃহীত ছবি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কঠোর হুঁশিয়ারির পর লোহিত সাগরে গতিরোধ করে উল্টো দিকে যাত্রা করেছে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকার। চীন ও ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করা ‘জিন লং ইয়াং’ এবং ‘রোডোস’ নামের জাহাজ দুটি লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে মোড় নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পর লোহিত সাগরের এই বিকল্প শিপিং রুটটিতে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। বিভিন্ন নৌ-পরিবহন কোম্পানিকে পাঠানো এক ইমেইলে তারা সৌদি আরবের যেকোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়। ওই বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের সামরিক সক্ষমতার আওতাধীন যেকোনো স্থানে ওই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

সমুদ্র ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবোঝাই করে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়া ‘জিন লং ইয়াং’ এবং প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ভারতের দিকে যাওয়া ‘রোডোস’—উভয় ট্যাংকারই বাব এল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে গেছে। এ ছাড়া একই বন্দরে তেলবোঝাই করতে আসা ‘নিউ প্রাইম’ নামের আরও একটি ট্যাংকার ওমান উপকূলেই পথ পরিবর্তন করেছে।

লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিদের এই নতুন হুমকিতে লোহিত সাগরে চলাচলের ক্ষেত্রে যুদ্ধঝুঁকি বিমার মাশুল ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সৌদি বন্দরে নোঙর করা বা গমনাগমনকারী জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর অতিক্রমের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।

সমুদ্র বিশ্লেষকদের মতে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করতে না পেরে জাহাজগুলোকে যদি সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার চারপাশ ঘুরে এশিয়ার গন্তব্যে যেতে হয়, তবে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন এই সামুদ্রিক অবরোধের ঝুঁকি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights