হোল্ডিংয়ের চোখে সর্বকালের সেরা শচীন
অনলাইন ডেস্ক
দুই জনই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট হাতে ক্রিকেটে বোলারদের শাসন করেছেন। দলের প্রয়োজনের তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, হয়েছেন রেকর্ডের বরপুত্র। সময়ের পরিক্রমায় অর্জন আর প্রাপ্তিতে ভরা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ওঠে সেরার লড়াই।
বলছিলাম ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার আর বিরাট কোহলির কথা। এর মধ্যে শচীন ক্রিকেট বিশ্বে যেসব সম্মান অর্জন করেছেন, তা অনেকে কল্পনাও করেতে পারবে না। আর কোহলি আধুনিক জগতের ক্রিকেটের নয়নমনি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে সেরা ক্রিকেটার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার মাইকেল হোল্ডিং। ‘টাইমস নাও স্পোর্টস’-এর সাথে আলাপকালে হোল্ডিং প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিচারে টেন্ডুলকারকে এগিয়ে রাখলেও ভারতের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে কোহলির প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্স যখন টেন্ডুলকারের চেয়ে কোহলিকে এগিয়ে রাখেন, তখন এই বিতর্কটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভারতের বাইরে ৬৮টি টেস্টে কোহলি ৪,৮৯৪ রান করেছেন এবং বিদেশের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন; অন্যদিকে টেন্ডুলকার ১০৬টি টেস্টে ৫৪.৭৪ গড়ে ৮,৭০৫ রান করেছেন।
‘টাইমস নাও স্পোর্টস’-এর সাথে কথা বলার সময় মাইকেল হোল্ডিংকে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলির বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাবেক এই ক্যারিবিয় ফাস্ট বোলার বিশুদ্ধ ব্যাটিং দক্ষতার বিচারে টেন্ডুলকারকে এগিয়ে রাখলেও কোহলির আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং কঠিন পরিস্থিতিতে খেলার সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
হোল্ডিং ‘টাইমস নাও স্পোর্টস’-কে বলেন, ‘শুধুমাত্র ব্যাটিং দক্ষতার কথা যদি বলি, তবে আমার মতে বিরাট কোহলির চেয়ে শচীন টেন্ডুলকার ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। তবে এটাও ঠিক, কোহলি ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক মনোভাব নিয়ে এসেছিলেন এবং আমি মনে করি, আমি আগে যা বলেছিলাম তার সাথে এর বড় একটা যোগসূত্র রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোহলি এমন সব পিচে খেলেছেন যা ফাস্ট বোলারদের জন্য বেশি অনুকূল ছিল, তাই ভারত ও ভারতের বাইরে উভয় জায়গাতেই সেই পিচগুলোর মোকাবিলা করার উপায় তাকে খুঁজে বের করতে হয়েছিল। এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতোই বিরাট কোহলিও বেশ আক্রমণাত্মক ও স্পষ্টবাদী স্বভাবের।
ধোনিকে টানলেন মাইকেল হোল্ডিং
এরপর বিরাট কোহলির মানসিক দৃঢ়তার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাইকেল হোল্ডিং আলোচনায় এমএস ধোনিকেও নিয়ে আসেন। তিনি যুক্তি দেন, কোহলিই একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার ছিলেন না যিনি প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি কোনো কিছুতেই পিছু হটেন না। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না; আরও অনেকে ছিলেন যারা তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তার সাথে খেলেছেন। ধোনি কি কারোর বা কোনো কিছুর কাছে পিছু হটবেন বলে মনে হয়? পরিস্থিতিটা একই রকম।
হোল্ডিং ব্যাখ্যা করেন, আমি এখন তাদের ব্যাটিং দক্ষতার তুলনা করছি না। আমি তাদের মনোভাব এবং মানসিক দৃঢ়তার কথা বলছি। তাই এবি ডি ভিলিয়ার্সকে মানুষ যা বলতে বলছে, তা নিয়ে আমি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিচারে বিরাট কোহলির চেয়ে সুনীল গাভাস্কার ও শচীন টেন্ডুলকারকে এগিয়ে রাখলেন মাইকেল হোল্ডিংকৌশলগত দক্ষতার প্রসঙ্গ আলোচনায় মাইকেল হোল্ডিং সুনীল গাভাস্কারকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তিনি এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিরাট কোহলির চেয়ে গাভাস্কার ও শচীন টেন্ডুলকার উভয়কেই এগিয়ে রেখেছেন; তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন, বিশ্লেষকরা কোন প্রজন্মের খেলা কাছ থেকে দেখেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই প্রায়শই তাদের মতামত গড়ে ওঠে। কৌশলগত দক্ষতার বিচারে বিরাট কোহলি শচীন টেন্ডুলকার বা সুনীল গাভাস্কারের মতো অতটা পোক্ত খেলোয়াড় ছিলেন না। মানুষ হয়তো অত পেছনের কথা ভাববে না। কারণ এবি ডি ভিলিয়ার্স হয়তো সুনীলকে খেলতেই দেখেননি, কিন্তু বাস্তবতাটা এমনই।
সাবেক এই ফাস্ট বোলার আরও বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের দেখা খেলোয়াড়দের নিয়েই কথা বলে এবং আমিও সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিই। আমি তাদের কথাই বলি যাদের খেলা আমি নিজে দেখেছি। যাদের আমি কখনো দেখিনি, তাদের নিয়ে বা তাদের বিষয় নিয়ে কথা বলায় আমি বিশ্বাসী নই। তবে বিরাট কোহলি চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তা তার ব্যাটিংয়ের মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, আর এটাই তো প্রয়োজন। আসলে দুটোরই সমন্বয় দরকার।
