১২ বছর পর রঞ্জিতে ফিরে ৬ রানে আউট কোহলি

অনলাইন ডেস্ক
অরুন জেটলির স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখন উত্তাল। চারপাশ কাঁপছে দর্শকের গগণবিদারী চিৎকারে। মাত্রই যে স্ট্রেইট ড্রাইভে দারুণ এক বাউন্ডারি মেরেছেন বিরাট কোহলি। কিন্তু একটু পরই সেই গ্যালারিতে নেমে এলো শশ্মানের নীরবতা। কারণ পরের ডেলিভারিতে যে আউট কোহলি।

বল তার ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে ছোবল দেয় স্টাম্পে। বাতাসে উড়ে গোটা তিনেক ডিগবাজি খেয়ে অফ স্টাম্প আছড়ে পড়ে স্লিপের দিকে। খ্যাপাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন রেলওয়েসের ডানহাতি পেসার হিমানশু সাংওয়ান। ১২ বছরের বেশি সময় পর শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রঞ্জি ট্রফিতে ফিরে দিল্লির হয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৫ বল খেলে ৬ রান করে আউট হন কোহলি।

কোহলির রাঞ্জি ট্রফিতে ফেরা ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট চলছে তুমুল তোলপাড়। দিল্লি ও রেলওয়েসের এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করার তালিকায় না থাকলেও লোকের আগ্রহের কারণে পরে এটি স্ট্রিমিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় বোর্ড। মাঠে দর্শকদের উত্তেজনা ও পাগলামো তো কোহলির আবেদন নতুন করে ফুটিয়ে তোলে আবার।

এই ম্যাচের জন্য মাঠে টিকেট ফ্রি করে দিয়েছে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত তিনটা থেকেই মাঠের সামনে দর্শক জড়ো হতে শুরু করেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

মাঠের গেট খোলার পর হুড়োহুড়ি করে মাঠে ঢুকতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন কিছু দর্শক। এমনকি আঘাত পান নিরাপত্তারক্ষীরাও। পরিস্থিতি সামলাতে বাড়তি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হয়। টসের সময়ই গ্যালারি প্রায় ভরে ওঠে। একটু পরে তো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না সেই গ্যালারিতে। ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি ম্যাচ ঘিরে এত উন্মাদনা কোহলি খেলবেন বলেই।

এই ম্যাচে কোহলিকে অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। তবে তিনি নিয়মিত অধিনায়ক আয়ুশ বাদোনির নেতৃত্বেই খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথম দিনে টস বোলিং নেয় দিল্লি। মাঠে থাকা হাজার হাজার দর্শক তাই কোহলির ব্যাটিং দেখতে পারেননি। তবে দিনজুড়েই দর্শকদের দিকে নানারকম ইঙ্গিত করে, ইশারায় কথা বলে তাদের বিনোদনের খোরাক জোগান কোহলি।

প্রথম দিনে ২৪১ রানে শেষ হয় রেলওয়েসের প্রথম ইনিংস। দিল্লি দিন শেষ করে ১ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে। দ্বিতীয় দিনেও কোহলির ব্যাটিং দেখার আশায় সকাল থেকেই গ্যালারি ছিল টইটম্বুর। শুক্রবার সকালে ইয়াশ ঢুল ৩২ রান করে আউট হলে ক্রিজে যান কোহলি। গ্যালারিতে তখন যেন ঝড় ওঠে। একটু পর ফুল লেংথ বলে ড্রাইভ করে বাউন্ডারি মেরে দর্শকদের আরও খ্যাপাটে করে তোলেন কোহলি।

কিন্তু পরের বলটির লেংথ একটু টেনে দেন বোলার হিমানশু। অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বলের লাইন বুঝতে গড়বড় করেন কোহলি। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প উড়িয়ে দেয় বল। মাথা নিচু করে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। উচ্চকিত গ্যালারি চুপসে যায় হুট করেই। ক্যামেরায় ফুটে ওঠে দর্শকদের হতাশ মুখায়ব। মাঠ ছাড়তে শুরু করেন তারা। দ্রুতই খালি হতে থাকে গ্যালারি। হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে কোহলির ব্যাটিং দেখার আশায় আবার ফিরবেন তারা।

এই ম্যাচের আগে কোহলি সবশেষ ভারতে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন ২০১২ সালের নভেম্বরে। দিল্লির হয়ে উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এই অরুন জেটলি স্টেডিয়ামেই। তখন তার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১০ টেস্ট ম্যাচের। তখনও আজকের কোহলি হয়ে ওঠেনিনি তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি সবশেষ খেলেছেন ২০১৫ সালে ভারতীয় ‘এ’দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights