‘১৫% ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেশকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করুন’

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, আইএমএফের চাপে ভ্যাটের হার ১৫% বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে নতুন বছরে সাধারণ মানুষের সংসার খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, এতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, আচার, টমেটো কেচাপ/সস, সিগারেট, জুস, টিসু পেপার, ফল, সাবান-ডিটারজেন্টসহ ৬৫ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, মোবাইলে ১০০ টাকা রিচার্জ এ কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার ৬৭ টাকার করা যাবে। যা সাধারণ মানুষ মেনে নিবে না।

মাওলানা মাদানী আইএমএফ এর চাপে সাধারণ মানুষের উপর ভ্যাটের হার বৃদ্ধি না করে অন্য কোন উপায়ে খুঁজে বের করতে সরকারের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনাকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আলহাজ্ব হারুন অর রশীদ, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মাওলানা মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান, শহিদুল ইসলাম কবির ও মুফতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ নতুন ভ্যাট হারের বিষয়টি অনুমোদন দিয়ে থাকলে গণমানুষের স্বার্থ বিরোধী এ সিদ্ধান্ত দ্রুত স্থগিত বা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে ফ্যাসিস্টদের দোসররা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে।

তিনি বলেন, ১৫% ভ্যাট বৃদ্ধি করা হলে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার খরচ বাড়বে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে-সুচারু গবেষণা ও সুচিন্তিত বিশ্লেষণ ছাড়া ভ্যাট হার বাড়ানো হলে অর্থনীতিতে সঠিক ফলাফল নাও দিতে পারে। অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ মূল্যস্ফীতির কশাঘাতে ছোট ব্যবসা আরও ছোট হচ্ছে। এই মুহূর্তে ভ্যাটের মতো জটিল নিয়ম তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে টিকে থাকাই মুশকিল হবে। বড় ব্যবসা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের বোঝা ভোক্তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীর পক্ষে তা অনেকাংশেই অসম্ভব। তাই টিকতে না পারলে ছোট উদ্যোগ বা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights