১৬ বছর ধরে সমান জনপ্রিয় থাকা সহজ নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৭ বছরে পা দিল। আমি একজন পত্রিকা এজেন্ট হিসেবে মাঠে কাজ করি, আবার এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বেও আছি। তাই খুব কাছ থেকে দেখেছি, এ পত্রিকাটি কীভাবে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। ১৬ বছর ধরে সমান জনপ্রিয় থাকা সহজ নয়। অনেক পত্রিকা এসেছে, বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিদিন টিকে আছে, কারণ তারা পাঠকের চাহিদা বুঝেছে। তারা এমন খবর দিয়েছে, যা মানুষ জানতে চায়। সহজ ভাষায়, স্পষ্টভাবে, বড় করে। আমরা যারা ভোরে হকারদের সঙ্গে কাজ করি, তারা জানি কোন কাগজের চাহিদা কত। বাংলাদেশ প্রতিদিনের চাহিদা এখনো বেশি।’ বলেন বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইয়ুব খান। তিনি আরও বলেন, এর কারণ মানুষ এতে নিজের এলাকার খবর পায়। শুধু ঢাকার খবর নয়, জেলা-উপজেলার খবরও গুরুত্ব পায়। একজন পাঠক যখন তার নিজের এলাকার ঘটনা কাগজে দেখে, তখন সেই কাগজের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, চাকরির খবর-সব একসঙ্গে থাকে। একটি পরিবারে একজন রাজনীতি পড়েন, আরেকজন খেলার পাতা দেখেন, কেউ স্বাস্থ্য বা লাইফস্টাইল পড়েন। এ কারণে পরিবারভিত্তিক পাঠক তৈরি হয়েছে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো ভাষা। বাংলাদেশ প্রতিদিনে এমনভাবে লেখা হয় যা সবাই বুঝতে পারে। গ্রামের মানুষও বুঝতে পারে, শহরের মানুষও পড়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। শিরোনামগুলো স্পষ্ট, ছবির ব্যবহার ভালো, উপস্থাপন আকর্ষণীয়। এসব বিষয় পাঠক ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এখন অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমের যুগ। অনেকে ভাবেন ছাপা কাগজের দিন শেষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র একটু আলাদা। আমি দেখছি বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইনেও অনেক এগিয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট হয়। ফেসবুকে খবর দেয়, ভিডিও করে, লাইভ করে। তরুণরা মোবাইলে দ্রুত খবর পেয়ে যায়।
সংবাদপত্রের বাজারে বড় সংকট চলছে। কাগজের দাম বেড়েছে, ছাপা খরচ বেড়েছে, পরিবহন খরচও বেশি। বিজ্ঞাপন কমে গেছে। আগে যে বিজ্ঞাপন কাগজে আসত, এখন তার বড় অংশ চলে গেছে অনলাইনে। এতে অনেক পত্রিকা সমস্যায় পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পত্রিকার হার্ডকপি এখন খুব কম যায়। এই কঠিন সংকটে হকাররা এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মিলছে না। প্রিন্ট পত্রিকার সার্কুলেশন দিনদিন কমছে। পত্রিকার পাঠক হারানো এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও ছাপা কাগজ কেন এখনো মানুষ খুঁজে বেড়ায়? কারণ কাগজের একটা আলাদা বিশ্বাস আছে। হাতে নিয়ে পড়ার একটা আলাদা অনুভূতি আছে। সকালে চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন মিলে একটি কাগজ পড়া, এটা এখনো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। গ্রামে এখনো অনেক জায়গায় সবাই মোবাইলে খবর পড়ে না। আবার স্কুল, কলেজ, অফিস, লাইব্রেরিতে কাগজ লাগে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ছাপা কাগজ সংরক্ষণ করা যায়। ভবিষ্যতে কেউ পুরোনো খবর খুঁজতে চাইলে কাগজই ভরসা। আমি মনে করি ছাপা কাগজ থাকবে। হয়তো সংখ্যা কমবে, ধরন বদলাবে, কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না। কারণ সংবাদপত্র শুধু খবর নয়, এটি একটি অভ্যাস, একটি আস্থা। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৬ বছরে সেই আস্থা তৈরি করতে পেরেছে। আমরা মাঠে কাজ করে তা বুঝি। ভোর হলে এখনো অনেক মানুষ অপেক্ষা করেন হকার কখন কাগজ নিয়ে আসবে। এ অপেক্ষাই প্রমাণ করে পাঠকের ভালোবাসা এখনো আছে। আর যত দিন এ ভালোবাসা থাকবে, তত দিন সংবাদপত্র বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৬ বছরে যে অবস্থান তৈরি করেছে, তা এসেছে ধারাবাহিকতা, পাঠককেন্দ্রিকতা এবং সময়ের সঙ্গে অভিযোজনের কারণে। আমি বিশ্বাস করি, পাঠকের আস্থা যত দিন থাকবে, সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ তত দিন উজ্জ্বল থাকবে। চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু সম্ভাবনাও কম নয়। প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতেও বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশ-জাতি গঠনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে।
