১৭ কোটি টাকার সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তি চরমে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচলে কাজে আসছে না। সেতুর দুই পাড়ে এপ্রোচ রোড পাকা না করায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংযোগ সড়কে কিছু বালু ফেলে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, আশির দশকে নির্মিত পুরোনো বেইলি ব্রিজটি যানবাহনের চাপ সহ্য করতে না পেরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বেইলি ব্রিজ ভেঙে প্রায় একশ ফুট দীর্ঘ গার্ডার সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা বাস্তবায়ন করছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।

ঠিকাদার কামাল হোসেন বলেন, কাজের শুরুতে চাঁদাবাজির শিকার হয়ে কয়েক দফা মারধরের ঘটনায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হলেও সওজের কাছ থেকে বকেয়া বিল না পাওয়ায় অর্থসংকটে পড়েছেন তিনি। ফলে দুই পাশে ১২০ মিটার ড্রেন নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন এবং এপ্রোচ রোড পাকা করার কাজ বাকি রয়েছে।

ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, সেতুর পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। প্রতিদিন, বিশেষ করে শুক্রবার ও ছুটির দিনে হাজারো মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু টানা দুই বছর ধরে সেতু নির্মাণাধীন থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়েই মানুষকে নদী পার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানান, ঝিনাই নদীর এই সেতু টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। আগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু সেতু চালু না হওয়ায় দুই বছর ধরে পণ্য পরিবহন, যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সওজ মধুপুর উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, পিএমপি (মেজর সেতু-কালভার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদীর ঝাওয়াইল সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে সড়কের উভয় পাশে কিছু খাস জমি দখল হয়ে থাকায় এপ্রোচ রোডের কাজ আটকে আছে। এসব জমি উদ্ধারের জন্য তিন সপ্তাহ আগে উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জমি উদ্ধার হলেই অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেতুটি চালু না হলে নির্বাচন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই দ্রুতই খাস জমি উদ্ধার করে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights