১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবারের এ আলোচনাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে করা চুক্তির পর এটিই হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম শাসনামলে ২০১৮ সালে এই পরমাণু চুক্তিটি বাতিল করেছিলেন। একই বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরাসরি আলোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর সময় এক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হন।

ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় যোগ দেবে না। অবশেষে সেই বাধা কাটলে ঐতিহাসিক এই সংলাপের পথ প্রশস্ত হয়।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ-দু’ভাবেই হতে পারে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কার্যসূচি ঠিক করার পর সরাসরি বৈঠক হতে পারে।

বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প তাঁর প্রধান শর্তটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তির মূল ভিত্তি হবে তাদের কাছে ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা’। চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি আপনাআপনি খুলে যাবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, দু’পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো বিষয়।

অন্যদিকে, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে রয়েছে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সব সংঘাতের অবসান ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।

এ আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দেশবাসীকে আলোচনার সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল।

সূত্র : আল-জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights