২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিনে ২২ বছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করা এক শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসা বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। এ ঘটনা কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তিকর এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলোভী পদে মো. মহিউদ্দিন চাকরি করতেন। ২০০৪ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০০৬ সালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: মহিউদ্দিন ওই পদে চাকরি নেন। এর আগে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন কলেজের হিসাব সহকারী পদে এমপিওভূক্ত ছিলেন। মাদ্রাসায় চাকরি হওয়ায় কলেজ থেকে অব্যাহতি নিয়ে মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তবে বেতন কাঠামো একই হওয়ায় মহিউদ্দিন তার কলেজের ইনডেক্স নাম্বারে মাদ্রাসার চাকরিতে এমপিওভূক্ত হয়েছেন। ওই সময় তজুমদ্দিন উপজেলায় রূপালী ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক কর্মচারীর ব্যাংক একাউন্ট ছিল রূপালী ব্যাংক বোরহানউদ্দিন শাখায়। পরবর্তীতে তজুমদ্দিন উপজেলায় রূপালী ব্যাংকের শাখা চালু হওয়ার পর সকল শিক্ষক কর্মচারী তজুমদ্দিন শাখায় নতুন হিসাব খোলেন। মহিউদ্দিন এর হিসাব নাম্বার ৮০৫। তিনি এই হিসাব নাম্বার থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন।
অভিযুক্ত মোঃ মহিউদ্দিন দাবি করেন, শুরু থেকেই তার এমপিও শিটে ব্যাংক হিসাব নাম্বার ভুল আসছে। এমন ভুল তার একার নয়। ওই মাদ্রাসার ১২ জনের ভুল আছে। বিগত দিনে ৫ বার সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। তবে সংশোধন হয়নি। মহিউদ্দিন আরও জানান, তিনি কলেজের ইনডেক্স নাম্বার ৬০২৭৮২ তে এমপিওভূক্ত হওয়ায় তার নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়নি। সম্প্রতি একটি চক্র তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত ভুলটি তুলে না ধরে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার করছে।
এদিকে মোহাম্মদ ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা মো. নুরুজ্জামান জানান, তিনি এই মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে দেখে আসছেন মো. মহিউদ্দিন এর এমপিও শিটে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার ৪৬০৭ আর তার বেতন হচ্ছে ৮০৫ একাউন্ট নাম্বারে। বিষয়টি তার নজরে আসার পর মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সংশোধন হয়ে আসেনি।
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক তজুমদ্দিন শাখার ম্যানেজার মুহিদুল ইসলাম জানান, মোহাম্মদ ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের এমপিও শিটে ভিন্ন একাউন্ট নাম্বার থাকতে পারে। তবে বেতন করা হয় ৮০৫ হিসাব নাম্বারে। কারণ মাদ্রাসার প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্বাক্ষরিত যেই বেতন শিট ব্যাংকে জমা দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী হিসাব নাম্বার ৮০৫-এ মো. মহিউদ্দিনের বেতন ভাতার টাকা জমা করে।
মৃত ব্যক্তির নামে আসা বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।’
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এ বিষয়রে ভোলা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো: হারুনুর রশিদ জানান, তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
