২০ হাজারের বেশি বিশ্বকাপ ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরুদ্ধে ভিসা বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে খেলা দেখতে যেতে আগ্রহী অনেক সমর্থকের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কানাডায় ভিসা আবেদনকারীদের অর্ধেকেরও বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) ১৬০টির বেশি দেশের আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ১৭ হাজার জনকে ভিসা দিয়েছে। এটি মোট আবেদনের প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে করা প্রায় ২০ হাজার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

কানাডায় প্রবেশের জন্য সাধারণত বিদেশি নাগরিকদের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) অথবা অস্থায়ী আবাসিক ভিসা প্রয়োজন হয়। প্রায় ১৪০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা বাধ্যতামূলক, আর ৫৪টি দেশের নাগরিকরা ইটিএর মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমতি পান।

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সব ইটিএ আবেদন অনুমোদন পেলেও উগান্ডা, শ্রীলঙ্কা ও বুরকিনা ফাসোর সব আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও জাপানের নাগরিকদের প্রচলিত ভিজিটর ভিসার প্রয়োজন না হলেও ছয় মাস পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য তাদের ইটিএ নিতে হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে। ভিসা আবেদনের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ দেশগুলোর একটি ছিল ঘানা। দেশটি থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৭২৫টি ভিজিটর ভিসা আবেদনের মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ১১ শতাংশেরও কম।

এদিকে ঘানার ফুটবলার থমাস পার্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে চলমান ধর্ষণ মামলার কারণে তার কানাডা ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘানা ইটিএ কর্মসূচির আওতায় নয়।

তবে আইআরসিসির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, চিকিৎসাকর্মী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, করপোরেট স্পনসর এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো দর্শনার্থীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কানাডা।

তিনি বলেন, কানাডার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস না করে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে আইআরসিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights