২৩টি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি রাশিয়ার নজরে?
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং পরমাণু অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাব্য মানচিত্র রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার যুক্তরাজ্যের ২৩টি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্থানের নাম সামনে এনেছে রাশিয়া-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।
প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং পারমাণবিক অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট এই স্থানগুলোর নাম প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই মস্কো, লন্ডন এবং ন্যাটোর মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘ভেস্তি নেডেলি’র সপ্তাহিক ফ্ল্যাগশিপ সংবাদ অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ অংশে উপস্থাপক দিমিত্রি কিসেলিওভ (যিনি ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান মুখ) যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র দেখিয়েছিলেন। সেই মানচিত্রে পেন্টাগন এবং ক্যাম্প ডেভিডের মতো নির্দিষ্ট স্থানগুলোকে সম্ভাব্য পরমাণু হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিসেলিওভ সেসময় দাবি করেন, রাশিয়ার জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে মার্কিন উপকূলে অবস্থিত সাবমেরিন থেকে এই লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে সেদিনের সেই প্রচারণার ছয় বছর পর ২০২৫ সালের শেষের দিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা একই ধরনের সতর্কতা জারি করে একটি তুলনামূলক তালিকা প্রকাশ করেছে, এবার তাদের লক্ষ্য যুক্তরাজ্য।
২০২৫ সালের শরতে এই পুরোনো ফুটেজটি পুনরায় আলোচনায় আসে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং রোসকসমসের প্রধান দিমিত্রি রোগোজিন (যিনি বর্তমানে রুশ-অধিকৃত জাপোরিঝজিয়ার সিনেটর) তার টেলিগ্রাম পোস্টে যুক্তরাজ্যের ২৩টি স্থানের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেগুলোকে প্রতিরক্ষা শিল্প এলাকা, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং সামরিক-সংযুক্ত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই তালিকার সময়কাল ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কিছু মন্তব্যের পরেই আসে। বিশেষত যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস ইউক্রেনকে ক্রিমিয়াকে বাসযোগ্যতাহীন করার জন্য দূরপাল্লার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করার কথা বলেছিলেন।
রোগোজিন তার পোস্টে ব্রিটিশদের সমালোচনা করে লেখেন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসীদের সঙ্গে শান্তি স্থাপন সম্ভব মনে করেন যারা, তাদের জন্য এই মানচিত্র পড়া দরকার। তিনি রুশ ধনকুবেরদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্কতাও যোগ করে বলেন, আপনার সন্তানদের ইংল্যান্ডে পড়তে পাঠাবেন না। এটা মারাত্মক বিপজ্জনক।
রোগোজিনের প্রকাশিত এই স্থানগুলো যুক্তরাজ্যের সরকারি নীতি পত্রে বর্ণিত ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজি ২০২৫-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
