২৩৩ মরদেহের মধ্যে পরিচয় মিলেছে মাত্র ৪টির, নেপালে বন্যার পর নতুন সংকট

অনলাইন ডেস্ক

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি সামনে এসেছে আরেকটি গভীর মানবিক সংকট। চিতওয়ান এলাকায় উদ্ধার হওয়া ২৩৩টি মরদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২২৯টি মরদেহ এতটাই পচে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার চিতওয়ান জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা মরদেহ ও দেহাবশেষের বেশিরভাগই পচন ধরে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যাতে স্বাভাবিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এসব মরদেহ বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টার ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো দ্রুত ব্যবস্থাপনার আওতায় না আনলে আরও পচন ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সংক্রমণ বা মহামারির ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অশনাক্ত ও দাবিহীন মরদেহের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিতওয়ান জেলা প্রশাসন। শনিবার থেকে ভারতপুর মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবঘাটের একটি নির্ধারিত খোলা জায়গায় এসব মরদেহ দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

তবে মরদেহগুলো স্থায়ীভাবে অশনাক্ত হয়ে যাবে না, সে বিষয়েও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহের জন্য আলাদা কোড নম্বর দেওয়া হবে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য বা নমুনা পাওয়া গেলে সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ থাকবে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় নিখোঁজদের উদ্ধারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চলছে। রসুয়া জেলার ত্রিশূলী ৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে কয়েকজন মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ জোরদার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি সুড়ঙ্গের মুখ খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত দুই দিন ধরেই এই উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন্যার পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে ভারতের একটি দলও ত্রিশূলি এলাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নেপালের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রধান সড়ক ও সেতুর অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই উত্তর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আবার বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সেখানেও উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights